মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন আগ্নেয়গিরির মোহনায় দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এখন যুদ্ধের আরো ভয়ঙ্কর এবং বড় কোনো ধাপে পা বাড়াতে পুরোপুরি প্রস্তুত। অন্যদিকে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যত ‘অন্ধ’ করে দেয়ার দাবি করেছে তেহরান।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী থেকে শুরু করে ইসরাইলের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত এক ভয়াবহ অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি এবং লেবাননের আল-মায়াদিন নেটওয়ার্ক ইরানের উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা সূত্রগুলো বরাত দিয়ে বলেছে, ইরান যুদ্ধের এমন এক পর্যায়ে যেতে চাইছে যা ইসরাইলের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে ইরান বেশ কড়া অবস্থান নিয়েছে। তাদের স্পষ্ট কথা, হয় এই পানিপথ সবার জন্য নিরাপদ থাকবে, নাহলে এখানে স্থায়ী অস্থিরতা চলবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এই প্রণালী নিয়ে যে ধরণের ‘মানসিক যুদ্ধ’ চালাচ্ছেন, ইরান তাকে পাত্তাই দিচ্ছে না। এমনকি তারা দাবি করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের পাহারায় থাকা কোনো জাহাজই এখন আর এই প্রণালী দিয়ে পার হতে পারছে না।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি ইতোমধ্যে দু’টি জাহাজকে সতর্কবার্তা অমান্য করায় সেখানে হামলা চালিয়েছে। তাদের সাফ কথা, হরমুজ প্রণালী এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং এখানে দখলদারদের কোনো জায়গা নেই।
এদিকে, ইসরাইলের ভেতরকার পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা ইসরাইলের নজরদারি ব্যবস্থা বা রাডার সিস্টেমের এমন ক্ষতি করেছে যে এখন ইরান থেকে কখন ক্ষেপণাস্ত্র বা মিসাইল এবং চালকহীন আকাশ যান বা ড্রোন ছোড়া হচ্ছে তা ঠাহরই করতে পারছে না ইসরাইলি বাহিনী। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই ইরানের মিসাইল ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। আবার উল্টা ঘটনাও ঘটছে; কোনো মিসাইল না ছোড়া সত্ত্বেও ইসরাইলে সাইরেন বেজে উঠছে, যা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
একজন ইরানি সূত্র তো হেসেই বলেছেন, ইসরাইল এখন শুধু তাদের মিডিয়া সেন্সরশিপ বা খবর চেপে রাখার ক্ষেত্রেই উন্নতি করেছে, কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে তাদের অবস্থা এখন নরকের মতো। ইসরাইলি সেনারা এখন বুঝতেই পারছে না কখন তাদের ওপর হামলা হবে আর কখন সাইরেনটা ভুল করে বাজানো হচ্ছে।



