যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সাময়িক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সম্মত হয়েছে ইরান। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ইরান ও ওমান পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ব্যবহার থেকে ফি আদায় করতে পারবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।
মার্কিন বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে আঞ্চলিক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার আওতায় ইরান ও ওমান উভয় দেশকেই পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ—সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি বা টোল আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, ইরান এই অর্থ দেশটির পুনর্গঠন কাজে ব্যবহার করবে। তবে ওমান এই অর্থ কী কাজে ব্যয় করবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এটি ওমান এবং ইরানের জলসীমানার মধ্যে অবস্থিত। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় সঙ্কট দেখা দেয়। আগে আন্তর্জাতিক এই জলপথ ব্যবহার করতে টোল আদায় না হলেও যুদ্ধ শুরুর পর ইরান টোল আদায় করার কথা জানায়।
বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে ইরানে পূর্বঘোষিত বিধ্বংসী হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এজন্য ইরানকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার শর্ত জুড়ে দেন তিনি। এই শর্ত পূরণ হলেই কেবল দুই সপ্তাহের ‘উভয়মুখী যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকবে।
পরে যুদ্ধবিরতির শর্তে সম্মত হয় ইরানও। এজন্য ১০টি শর্ত জুড়ে দেয় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিও।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যমে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করা হলে তেহরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত সম্ভব হবে।
সূত্র : আল জাজিরা, এপি।



