ইরানের রাজধানী তেহরানে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে জনতার সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা।
ইরানের বার্তাসংস্থা ফার্স জানায়, চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লোরদেগান শহরে সংঘর্ষে দু’জন এবং পাশের লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে তিনজন নিহত হয়েছেন। লোরদেগানে উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা গভর্নরের কার্যালয়, মসজিদ ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবনে পাথর নিক্ষেপ করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে।
সংস্থাটি আরো জানায়, হামলায় ভবনগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে আজনা শহরে বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একটি থানায় হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়, পশ্চিমাঞ্চলীয় কুহদাশতে রাতের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
লোরেস্তান প্রদেশের উপগভর্নর সাঈদ পোরআলি জানান, ২১ বছর বয়সী ওই বাসিজ সদস্য জনশৃঙ্খলা রক্ষার সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে নিহত হন। বাসিজ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাথে যুক্ত একটি স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী। কুহদাশতের বিক্ষোভে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন।
বার্তাসংস্থা তাসনিম জানায়, তেহরানে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত রাতে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
গত রোববার এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করলে তা দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্র: বাসস



