উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে ইরান

ইরানের মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি কূটনৈতিক দলও তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তার ভাষায়, 'আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যখন মার্কিন আগ্রাসনের উৎসে দৃঢ় ও চূড়ান্ত জবাব দিচ্ছে, তখন কূটনীতিও নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসমাইল বাকেই
ইসমাইল বাকেই |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে কিছু প্রস্তাব পেয়েছে ইরান। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির মধ্যেই এই প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে দেশটি। তবে কূটনীতির পথ খোলা রাখার ব্যাপারে নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথাও আবারো পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।

তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু সোমবার (২০ জুলাই) জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরিস্থিতি যেন আরো খারাপ না হয়, সে জন্য মধ্যস্থতাকারীরা কাজ করছেন এবং তারা কিছু প্রস্তাব তেহরানের কাছে পাঠিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-র বরাতে তিনি বলেন, 'আমরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবগুলো পেয়েছি, তবে এই মুহূর্তে এগুলোর বিস্তারিত নিয়ে কোনো আলোচনা করব না।'

মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি কূটনৈতিক দলও তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তার ভাষায়, 'আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যখন মার্কিন আগ্রাসনের উৎসে দৃঢ় ও চূড়ান্ত জবাব দিচ্ছে, তখন কূটনীতিও নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। তারা কাজ করতে কোনো কমতি রাখছে না।' তিনি যোগ করেন, সশস্ত্র বাহিনী যেমন জন্মভূমি রক্ষায় কোনো অবহেলা করবে না, তেমনি কূটনীতিকরাও তাদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবে না।

এর পাশাপাশি ওমানের সাথে সহযোগিতা বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো নিরাপত্তা হুমকি রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইরান বদ্ধপরিকর বলে জানান বাকেই।

এদিকে, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বন্দি এক মার্কিন নাগরিককে ইরান মুক্তি দিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা নাকচ করে দিয়েছেন বাকেই। ইরানের বিচার বিভাগের আগের বিবৃতির সুর মিলিয়ে তিনি বলেন, ট্রাম্পের বর্ণনার সাথে মেলে এমন কোনো মার্কিন বন্দিকে ইরানের কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়নি। বাকেই পরিষ্কার করে বলেন, “সংশ্লিষ্ট ওই ব্যক্তি কোনো বন্দি ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির কোনো অভিযোগও ছিল না।”

গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ‘অন্যায়ভাবে আটকে রাখা’ এক মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে ইরান। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছিলেন, 'তিনি এখন ইরানের বাইরে নিরাপদে এবং ভালো আছেন। ইরানের এই সদিচ্ছার প্রশংসা করছে যুক্তরাষ্ট্র।'

গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত অবসান ও স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত থামেনি। এর মধ্যেই গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে দুই দেশের উত্তেজনা আবারো নতুন করে তুঙ্গে ওঠে। আর সেই পটভূমিতেই তেহরানের পক্ষ থেকে এই নতুন মন্তব্য এলো।