ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কূটনৈতিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার এই হামলাটি হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, ইরান ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধের পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরানপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।
ইরাকি প্রতিরোধ বাহিনীর পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে গত ১২ দিনে তারা ২৯১টি অপারেশন চালিয়েছে এবং তাতে ১৩ জন আমেরিকান প্রাণ হারিয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, রিয়াদের দূতাবাসের ওপর তলায় থাকা সিআইএ স্টেশনে ড্রোন হামলা চালানোকে ইরানের জন্য বড় প্রতীকী জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, বাগদাদ ডিপ্লোম্যাটিক সাপোর্ট সেন্টার লক্ষ্য করে ছয়টি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচটি ড্রোন আকাশে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করা গেলেও একটি ড্রোন সরাসরি ওই কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। হামলার সময় কেন্দ্রের লোকজনকে তড়িঘড়ি নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়।
এদিকে ইরানের তাসনিম বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, ইরাকি প্রতিরোধ বাহিনী বা ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স এক বিবৃতিতে বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করে মোট ৩১টি অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের হিসাবে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চালানো শত শত হামলায় আমেরিকানদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পেন্টাগন অবশ্য স্বীকার করেছে, এই সঙ্ঘাতে এখন পর্যন্ত তাদের ১৪০ জন সার্ভিস মেম্বার আহত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন সাত সেনা সদস্য।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এই লড়াইকে সামরিক সাফল্য হিসেবে দাবি করলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দফতরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শুধু ইরাক নয়, কুয়েত ও দুবাইয়ের মার্কিন দূতাবাস ও কনসুলেটেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের একটি অংশ তো ড্রোন হামলায় এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তা আর ব্যবহারের যোগ্য নেই।
বিশেষ করে গত সপ্তাহে রিয়াদের দূতাবাসের ওপর তলায় থাকা সিআইএ স্টেশনে ড্রোন হামলা চালানোকে ইরানের জন্য বড় প্রতীকী জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে তুরস্ক ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে জরুরি নয় এমন কূটনীতিকদের সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট।



