গাজাবাসীদের জোরপূর্বক দক্ষিণে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, উত্তরে গাজা শহর ও আরো দক্ষিণে আল-মাওয়াসি এলাকায় হামাসের অবশিষ্ট দুটি ঘাঁটি ধ্বংস করার জন্য সেনাবাহিনীকে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা |সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক দক্ষিণে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। রোববার (১৭ আগস্ট) থেকে এ পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এর কয়েকদিন আগেই, গাজা শহর নিয়ন্ত্রণে নিতে নতুন অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছিল ইসরাইল।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদ্রেয়ি শনিবার জানিয়েছেন, গাজার বাসিন্দাদের তাঁবু ও অন্যান্য আশ্রয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। যা জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো কারেম আবু সালেম বা কেরেম শালোম ক্রসিং দিয়ে পরিবহন করবে।

ইসরাইলি ঘোষণার বিষয়ে জাতিসঙ্ঘ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বৃহস্পতিবার তারা সতর্ক করে দিয়েছে, গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা কার্যকর হলে গাজার হাজার হাজার পরিবার আরো ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, উত্তরে গাজা শহর ও আরো দক্ষিণে আল-মাওয়াসি এলাকায় হামাসের অবশিষ্ট দুটি ঘাঁটি ধ্বংস করার জন্য সেনাবাহিনীকে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে গাজা সিটিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বসবাস করছেন। তবে তাদের কোথায় সরানো হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ এ পরিকল্পনাকে ‘গাজা দখলের অংশ’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে প্রকাশ্য উপহাস’ বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, ক্ষুধা, হত্যাযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যেই মানুষকে পালাতে বাধ্য করা মানবতার বিরুদ্ধে চলমান অপরাধ।

এদিকে, গত এক সপ্তাহ ধরে গাজা শহরের জেইতুন ও শুজাইয়া এলাকায় তীব্র হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। স্থানীয়রা জানান, বিমান ও ট্যাংক হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত এবং আরো অনেকে আহত হয়েছেন।

সূত্র : আল জাজিরা