ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মিসরের সাথে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস চুক্তির অনুমোদনের ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, এই চুক্তির মূল্য ১১২ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার)। যা ইসরাইলের ইতিহাসে বৃহত্তম গ্যাস চুক্তি।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেনের সাথে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেছেন, এই চুক্তির মূল্য ১১২ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার)। যা ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গ্যাস চুক্তি।
তিনি আরো বলেন, আমেরিকান কোম্পানি শেভরনের সাথে চুক্তিটি ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্বার্থ নিশ্চিত করার পরই অনুমোদন করা হয়েছে। প্রথম ও প্রধান শর্ত অনুযায়ী, এই চুক্তির অধীনে কোম্পানিগুলোকে ইসরাইলের নাগরিকদের কাছে স্বল্প দামে গ্যাস বিক্রি করতে হবে।
এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি। মিসরীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই চুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এর আগে, সেপ্টেম্বরে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োম জানিয়েছিল, নেতানিয়াহু মিসরের সাথে বিশাল গ্যাস চুক্তি তার অনুমোদন ছাড়া এগিয়ে না নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সিনাই অঞ্চলে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে কায়রো দু‘দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘শান্তি চুক্তি লঙ্ঘন‘ করেছে বলে তেল আবিব অভিযোগ করেছিল। এ অভিযোগের কারণে তিনি এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে, মিসর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
১৯৭৮ সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পর ১৯৭৯ সালের ২৬ মার্চ ওয়াশিংটনে মিসর ও ইসরাইল একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো, দু‘দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, সিনাই উপদ্বীপ থেকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক নাগরিকদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং অঞ্চলটিকে সামরিকীকরণমুক্ত করা ছিল এই চুক্তির প্রধান শর্ত।
গত ৭ আগস্ট এই চুক্তি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ সময় মারিভ সংবাদমাধ্যম জানায়, লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্র থেকে মিসরে গ্যাস রফতনির জন্য নিউমেড এনার্জি একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা ২০১৯ সাল থেকে কার্যকর থাকা বিদ্যমান চুক্তিটিকে আরো সম্প্রসারিত করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে অংশীদাররা ২০৪০ সাল পর্যন্ত মিসরের কাছে ১৩০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস বিক্রি করবে। লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্রের পরিচালনার অধিকারগুলো তিনটি ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে নোবেল এনার্জি ৩৯.৬৬ শতাংশ, যা ২০২০ সালের অক্টোবরে মার্কিন জ্বালানি জায়ান্ট শেভরন অধিগ্রহণ করেছে; নিউমেড এনার্জি পার্টনারশিপ ৪৫.৩৩ শতাংশ এবং রেশিও অয়েল এক্সপ্লোরেশন ১৫ শতাংশ।
ইসরাইল হায়োমের তথ্যমতে, মিসরের জ্বালানি কোম্পানি ব্লু ওশান এনার্জি (বিওই) এই গ্যাসের ক্রেতা। এই চুক্তিটি গত পাঁচ বছরে মিসরে ইসরাইলি প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতার একটি নতুন সংযোজন।
সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি



