লেবাননে ‘গাজা মডেলে’ পানির অবকাঠামো ধ্বংস করছে ইসরাইল

চার দিনের মধ্যে লেবাননের বেকা অঞ্চলে অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব উৎসের মধ্যে ছিল জলাধার, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক এবং পাম্পিং স্টেশন, যা প্রায় সাত হাজার মানুষের পানির চাহিদা পূরণ করতো।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
লেবাননের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম কাসমিয়া সেতুতে ইসরাইলি বিমান হামলার পর ধোঁয়া উঠছে
লেবাননের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম কাসমিয়া সেতুতে ইসরাইলি বিমান হামলার পর ধোঁয়া উঠছে |আনাদোলু এজেন্সি

একরামুল ইসলাম

ফিলিস্তিনে গাজা উপত্যকায় ব্যবহৃত পৈশাচিক সামরিক কৌশল এখন লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োগ করছে দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইল। বিশেষ করে পানির অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৃহত্তম দাতব্য সংস্থা অক্সফাম গুরুতর এ অভিযোগ তুলেছে।

মঙ্গলবার ( ২৪ মার্চ) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে সংস্থাটি জানায়, ইসরাইলি বাহিনী লেবাননে পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো ধ্বংস করছে। এর মধ্যে এমন স্থাপনাও রয়েছে, যেগুলো পূর্ববর্তী যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পুনর্গঠনের কাজ চলছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন—বিশেষ করে জেনেভা কনভেনশন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য পানির উৎসসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা নিষিদ্ধ করেছে। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে পানির প্রবাহ বন্ধ করা বা সহায়তা বাধাগ্রস্ত করাও বেআইনি।

অক্সফাম সতর্ক করে বলেছে, “ইচ্ছাকৃতভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ করা বা মানবিক সহায়তা আটকে দেয়া যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”

দাতব্য সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রথম কয়েক সপ্তাহে মাত্র চার দিনের মধ্যে লেবাননের বেকা অঞ্চলে অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব উৎসের মধ্যে ছিল জলাধার, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক এবং পাম্পিং স্টেশন, যা প্রায় সাত হাজার মানুষের পানির চাহিদা পূরণ করতো।

প্রতিবেদন আরো বলছে, পরিষ্কার পানির অভাব দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

পানির অবকাঠামোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক ও সেতুও ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, ফলে বহু শহর ও গ্রামে জরুরি সরবরাহ ও সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

লেবাননে অক্সফামের কান্ট্রি ডিরেক্টর বাশির আইউব বলেন, “গাজায় যেভাবে একই ধাঁচের অভিযান চালানো হয়েছিল, লেবাননেও সেই চিত্রই দেখা যাচ্ছে।” তার দাবি, গাজায় এসব কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ইসরাইল যে দায়মুক্তি পেয়েছে, তা এখন আবারো দৃশ্যমান।

অন্যদিকে, লেবানন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামলায় অন্তত ১,০৩৯ জন নিহত এবং ২,৮৭৬ জন আহত হয়েছেন।

এই উত্তেজনা এমন সময়ে বেড়েছে, যখন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা চলমান। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ সংঘাতে এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে। পাল্টা জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা ইসরাইল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু এলাকায় আঘাত হেনেছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি