হরমুজ সঙ্কট : ইরানের পররাষ্ট্রমান্ত্রীর ওমান সফরে শান্তির নতুন সমীকরণ

ওমানের সুলতান হিশাম বিন তারিক আল সাঈদের সাথে আরগচির এই বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। বৈঠকে আরগচি ওমানের বিচক্ষণ অবস্থানের প্রশংসা করে বলেন, মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ওমান যেভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে তা প্রশংসার দাবি রাখে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রাজধানী মাসকটে ওমানের সুলতান হিশাম বিন তারিক আল সাঈদের সাথে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হরমুজ সঙ্কটসহ মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বৈঠক করেন
রাজধানী মাসকটে ওমানের সুলতান হিশাম বিন তারিক আল সাঈদের সাথে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হরমুজ সঙ্কটসহ মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বৈঠক করেন |তাসনিম নিউজ

পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিশেষ করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে ইরান-ওমান বিস্তারিত তথ্য বিনিময় করেছে।

হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও করেছে দেশ দুটি। আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথভাবে বিনা উসকানিতে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরগচি আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) মাসকাট সফরকালে ওমানের সুলতানের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, ওমানের সুলতান হিশাম বিন তারিক আল সাঈদের সাথে আরগচির এই বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। বৈঠকে আরগচি ওমানের বিচক্ষণ অবস্থানের প্রশংসা করে বলেন, মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ওমান যেভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ জোর দিয়ে বলেছেন যে, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা তেহরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিশ্লেষণে আরগচি কিছুটা কড়া সুরেই নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি সরাসরি বলেন যে, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেয়া গত ৪০ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে দিয়েছে যে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কোনো সমাধান নয়, বরং এটি কেবল নিরাপত্তাহীনতা আর বিভেদ তৈরি করে।

আরগচির মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উচিত বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের মধ্যে একটি যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ওমানের সুলতানকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাইরের শক্তির মুখাপেক্ষী হওয়া মানেই বিপদকে আমন্ত্রণ জানানো। এই অঞ্চলে টেকসই শান্তি আনতে হলে সব দেশের মধ্যে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

ওমানের সুলতান হিশাম বিন তারিক আল সাঈদ এই বৈঠকে ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। মার্কিন ও জায়নবাদী আগ্রাসনে ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হোসাইনী খামেনি এবং ইরানের উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের শাহাদাত বরণের ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন। সুলতান বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। শান্তি আর স্থিতিশীলতার পক্ষে ওমানের যে দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে, সুলতান তা আবারো স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তার দেশ যে কোনো উপায়ে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবং এই অঞ্চলে স্থিতি ফেরাতে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত।

বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও নিবিড় আলাপ হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে আরগচি ও সুলতান বিস্তারিত তথ্য বিনিময় করেন। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আল-বুসাইদও এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার আশায় ওমান সব ধরনের কূটনৈতিক সহযোগিতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে আরগচির এই সফরটি নির্দেশ করছে যে, ইরান এখন সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সংহতি বাড়িয়ে আমেরিকার প্রভাব কমানোর এক কৌশলী পথে হাঁটছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ