মধ্যপ্রাচ্যে ছড়াতে থাকা সংঘাত রুখতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এক ফোনালাপে তিনি স্পষ্ট জানান, এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। উত্তেজনা না কমিয়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে তার পরিণতি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। রোববার (২ আগস্ট) পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই খবরের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
এই সংলাপে দুই নেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেন।
মার্কিন হামলা ও ওয়াশিংটনের দাবি
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পরই ইরান নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনায় বসতে আরো বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
রুবিও বলেন, "মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং অস্ত্র তৈরির কারখানা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের হাতে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে, যা ক্ষতি করতে সক্ষম। তবে আগে তারা যে প্রতিরক্ষার আড়ালে লুকিয়ে থাকত, সেই শক্তি এখন আর নেই।" মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন শক্তিশালী অবস্থানে থেকে আলোচনা পরিচালনা করছে বলেই তেহরান চুক্তি করতে একরকম ব্যাকুল হয়ে পড়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ সতর্কতা
এদিকে ওয়াশিংটনের তীব্র হুমকির জবাবে ইরান জানিয়েছে, তারা শত্রুপক্ষের প্রতিটি হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে আল-রেজা বলেছেন, "মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হলেও আমরা এসব হুমকিকে অবহেলা করব না। ইরান কখনো অস সতর্ক থাকবে না কিংবা নিষ্ক্রিয় বসে থাকবে না।"
ইরানি বার্তা সংস্থা মেহের-কে তিনি জানান, এসব হুমকিকে কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের সামরিক প্রস্তুতি আরো বাড়াবে এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করবে।



