মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে এই ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অবশ্যই বাড়ানো উচিত বলে আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি জানিয়েছেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে দুই পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন,এই মুহূর্তে লেবানন পরিস্থিতির চেয়েও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই আলোচনা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে; আর এই সুযোগে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ভূখণ্ড দখলের পাঁয়তারা করছে বলে তিনি জানান।
দক্ষিণ তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ফিদান বলেন, ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া অনেকটা গুছিয়ে আনা হলেও এখনো কিছু কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
আগামী বুধবার এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, যা বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফিদান জোরালোভাবে দাবি করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অবশ্যই বাড়ানো উচিত।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, আন্তর্জাতিক মহলের নজর যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনার দিকে নিবদ্ধ, তখন ইসরাইল সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লেবাননে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন যে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের জমি দখলের মতো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ফিদান সতর্ক করে বলেন, ইসরাইল আসলে একটি 'ফেইট একমপ্লি' বা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে যা পরবর্তীতে আর বদলানো সম্ভব হবে না। আন্টালিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আল জাজিরা জানাচ্ছে, তুরস্ক এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের কোনো সংঘাত এড়াতে সব পক্ষকে সংযত থাকার এবং কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।
সূত্র: আল জাজিরা



