লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলা

ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট এমন বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলার পর ধোঁয়া উড়ছে
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলার পর ধোঁয়া উড়ছে |সংগৃহীত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী আবারো ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখনো কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গত বছর হিজবুল্লাহর সাথে সম্মত হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরাইল বারবার লঙ্ঘন করায় উত্তেজনা বাড়ছে।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা এসব তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমানগুলো মাউন্ট সাফি, জবা শহর, জেফতা উপত্যকা এবং আজ্জা ও রুমিন আরকির মধ্যবর্তী এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইসরাইলি বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট এমন বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে তাদের অভিজাত রাদওয়ান ফোর্সের ব্যবহৃত একটি বিশেষ অভিযান প্রশিক্ষণ কম্পাউন্ডও রয়েছে।

এছাড়াও তারা হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ভবন ও একটি রকেট নিক্ষেপের স্থানেও হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক মাসের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগিয়ে নেয়ার জন্য ইসরাইল ও লেবানন একটি সামরিক কমিটিতে তাদের বেসামরিক দূত পাঠানোর কয়েকদিন পর এই হামলা চালানো হলো।

এর আগে, শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, তার দেশ ইসরাইলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে এবং এই আলোচনার লক্ষ্য তার দেশের ওপর ইসরাইলের অব্যাহত আক্রমণ বন্ধ করা।

২০২৪ সালে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ইসরাইলের বিমান হামলা আরো বাড়তে পারে লেবাননে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ।

নভেম্বরে প্রকাশিত জাতিসঙ্ঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে লেবাননে শিশুসহ কমপক্ষে ১২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব হামলা যুদ্ধাপরাধের সমান।

সূত্র : আল জাজিরা