ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের আমলে অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইহুদি বসতি ও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ২০২২ সালের শেষ দিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকে পশ্চিমতীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
শনিবার (৫ জুলাই) তুর্কী বার্তাসংস্থা আনাদোলু অ্যাজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমতীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের সংখ্যা ১২৮টি থেকে বেড়ে ১৭৮টিতে দাঁড়িয়েছে। শতকরা হিসেবে নেতানিয়াহুর আমলে পশ্চিমতীরে বসতি স্থাপনের হার বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। একইসাথে বেড়েছে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংসের ঘটনা।
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের দুই দিন আগে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের স্পিকার আমির ওহানাসহ ১৪ জন মন্ত্রী পশ্চিমতীরে দখল করা এলাকা আরো বাড়ানোর দাবি জানিয়ে নেতানিয়াহুর কাছে চিঠি দিয়েছিলেন।
সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে পশ্চিমতীরে কমপক্ষে ৫০টি নতুন বসতি স্থাপনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। নতুন স্বীকৃত বসতিগুলোর মধ্যে ১৯টি ইতোমধ্যেই বিদ্যমান, সাতটি বর্তমানে চারণভূমি, ১৪টি মহল্লা এবং ১০টি এখনো কাগজে কলমে আছে।
কয়েক ডজন নতুন বসতি স্থাপনের পাশাপাশি পশ্চিমতীরে বিদ্যমান বসতিগুলোতে নির্মাণের হার গত আড়াই বছরে রেকর্ড ভেঙেছে এবং ২০২৫ সালের প্রথম দিকে নির্মাণের হার আরো বেড়েছে বলে উল্লেখ করেছে চ্যানেল ১২। গত আড়াই বছরে ৪১ হাজার ৭০৯টি নতুন অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার। নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগের ছয় বছরে পশ্চিমতীরে অ্যাপার্টমেন্ট স্থাপনের অনুমতি প্রদানের রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে।
চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ পশ্চিমতীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের সংখ্যা ২১৪টিতে পৌঁছেছে, এর মধ্যে ৬৬টি গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সম্প্রচারমাধ্যমটি বলেছে, পশ্চিমতীর এলাকায় ডজন ডজন নতুন বসতি স্থাপনের ঘোষণা, অভাবনীয় গতিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, কৌশলগত সড়ক নির্মান এবং একের পর এক ফিলিস্তিনি ভবন ধ্বংস, এসবের মূল লক্ষ্য পুরো পশ্চিমতীরে ইহুদিবাদী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রস্তাবকে কার্যকরভাবে নস্যাৎ করে দেয়া।



