ইসরাইলি বসতি স্থাপন পরিকল্পনা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে ‘কবর’ দেবে : স্মোট্রিচ

অধিকৃত পশ্চিমতীরে একটি বিতর্কিত বসতি স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে তিন হাজারেরও বেশি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে ইসরাইল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসরাইলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ
ইসরাইলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ |সংগৃহীত

ইসরাইলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিমতীরে একটি বিতর্কিত বসতি স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে তিন হাজারেরও বেশি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণার কবর হবে।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

জেরুসালেম ও মালে আদুমিম বসতির মধ্যবর্তী এলাকায় তথাকথিত ‘ই-ওয়ান’ প্রকল্পটির কাজ আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র বিরোধিতার মুখে কয়েক দশক ধরে স্থগিত রয়েছে। সেখানে বসতি স্থাপন করলে অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেম থেকে পশ্চিমতীর কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

স্মোট্রিচ বলেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হলে তা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে ব্যর্থ করে দেবে। কারণ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার মতো কিছুই নেই এবং স্বীকৃতি দেয়ার মতোও কেউ নেই।

আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বসতিগুলোকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হয় এবং এটি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি।

ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন পিস নাউ-এর মতে, পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুসালেমে ১৬০টি বসতিতে প্রায় সাত লাখ ইহুদি বসবাস করেন। এই ভূখণ্ড নিয়েই ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় ফিলিস্তিনিরা।

স্মোট্রিচ বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক চাপ ও স্থগিতাদেশের পর আমরা প্রথা ভেঙে মালে আদুমিমকে জেরুসালেমের সাথে সংযুক্ত করছি। এটাই জায়নিজমের সর্বোত্তম রূপ- বাড়ি নির্মাণ, বসতি স্থাপন এবং ইসরাইলের ভূমিতে আমাদের সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করা।’

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। যদিও ইসরাইল এ ধরনের উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে বসতি স্থাপনের ঘোষণা এরপরই এসেছে।

ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সংগঠন ইয়েশা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ইসরাইল গাঞ্জ ও মালে আদুমিমের মেয়র গাই ইফ্রাচের সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরিকল্পনা ঘোষণা করে স্মোট্রিচ বলেন, এই ভূমি ঈশ্বর ইহুদিদের উপহার দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো যারা এই বছরের শেষের দিকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনা করছে, তাদের এই পরিকল্পনা কী বার্তা দেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি কখনোই হবে না। স্বীকৃতি দেয়ার মতো কোনো রাষ্ট্রই থাকবে না।’

ইসরাইলের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, ‘একটি স্থিতিশীল পশ্চিমতীর ইসরাইলকে নিরাপদ রাখবে। এটি এই অঞ্চলে শান্তি অর্জনে এই প্রশাসনের লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।’

তবে জাতিসঙ্ঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরাইলকে এই পরিকল্পনায় অগ্রসর না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।