গাজায় বাংলাদেশী বেসরকারি সেবা সংস্থা ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি বাংলাদেশ’ নিয়ে লাইভ করেছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। মঙ্গলবার গাজায় সংস্থাটির চলমান ত্রাণ সহায়তা নিয়ে ওই লাইভ কভারেজ প্রচার করা হয়।
আল জাজিরার লাইভে দেখা যায়, হাফেজ্জী চ্যারিটেবলের রান্না করা খাবার গাজাবাসীর মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। গাজার ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ সবাই খাবারের জন্য ছুটে আসছেন। খাবার পেয়ে তারা খুশি প্রকাশ করছেন।’
গাজায় হাফেজ্জী চ্যারিটেবলের স্থানীয় দায়িত্বশীল আকরাম আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা গাজাজুড়ে পানি, রান্না করা খাবার, কোরবানির গোস্ত, হাসপাতালের ক্ষুধার্ত শিশুদের জন্য দুধ ও নগদ অর্থ বিতরণ করছে। কিন্তু এই খাবার বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট নয়। অনেকে বলছে, ত্রাণ পর্যাপ্ত পরিমাণে ঢুকছে। এটা পুরোপুরি মিথ্যা। বহু মানুষ দু’দিন ধরে একমুঠো খাবারও পায়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘যদি এই আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়, পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। ক্ষুধা চরম আকার ধারণ করবে। আমাদের বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো টাকা তোলার সময় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কেটে নেয়া হচ্ছে। এটি ভয়ঙ্কর অন্যায়।’
লাইভে গাজায় হাফেজ্জীর টিম লিডার আকরামকে প্রশ্ন করা হয়, ‘এই রান্না করা খাবারের আয়োজন থেকে মুসলিম উম্মাহর কাছে আপনি সর্বশেষ কী বার্তা পৌঁছাতে চান? আকরাম বললেন, ‘আমার বার্তা হলো, আপনারা এ ধরনের সহযোগিতা আরো বাড়িয়ে দিন। বিশেষ করে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রতি আমার অনুরোধ, তারা যেন এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখে।’
উল্লেখ্য, হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের শুরু ২০১৩ সালে। দেশের শীর্ষ আলেমদের ত্ত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে সংস্থাটি। সংস্থাটি দেশে অসহায়ের সহযোগিতা, চিকিৎসা, স্বাবলম্বীকরণ ও পুনর্বাসনে কাজ করছে। কয়েক লাখ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে এরই মধ্যে। পুনর্বাসন করছে অসহায়দের। নওমুসলিমদের জন্য আছে কল্যাণ কর্মসূচি। দেড় বছর ধরে সহযোগিতা করছে গাজার অসহায়দের। গাজার শিশুদের জন্য করেছে স্কুল। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে চারটি হাসপাতালে নিয়মিত সহযোগিতা করছে।



