ইসরাইলি হামলায় গুড়িয়ে গেছে গাজার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বহুতল ভবন

সুসি টাওয়ারটি টানা দুই দিনে ধ্বংস হওয়া গাজার দ্বিতীয় বহুতল ভবন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের আল-রিমাল এলাকায় অবস্থিত মুশতাহা টাওয়ারের নিচতলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ভবনটি ধসে পড়ে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসরাইলি হামলায় ধংস হয়ে যাওয়া গাজার সুসি টাওয়ার
ইসরাইলি হামলায় ধংস হয়ে যাওয়া গাজার সুসি টাওয়ার |সংগৃহীত

গাজা সিটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বহুতল ভবনটি গুড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী আইডিএফ। চলমান যুদ্ধে কাছাকাছি সময়ের মধ্যে প্রথম বড় কোনো টাওয়ারকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করলো আইডিএফ। হামলায় হতাহতের সংখ্যা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভবনটি ধসে পড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমরা হামলা চালিয়ে যাচ্ছি।’

সম্প্রতি গাজায় সামরিক অভিযান আরো বাড়িয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। তাদের দাবি, হামলায় ধংস হয়ে যাওয়া সুসি টাওয়ারটি হামাস ব্যবহার করছিল। তবে তাদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস।

শনিবারের (৬ সেপ্টেম্বর) ওই হামলার আগে ইসরাইল লিফলেট ছড়িয়ে ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণের একটি ‘মানবিক জোনে’ সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদ্রেয়ি স্থানীয়দের খান ইউনিস ও উপকূলরেখার মধ্যবর্তী এলাকা আল-মাওয়াসিতে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

আইডিএফ এর আগেও অনেকবার বেসামরিক নাগরিকদের সেখানে সরে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, সেখানে চিকিৎসা সেবা, পানি ও খাদ্য সরবরাহ করা হবে। তবে জাতিসঙ্ঘ বলছে, আল-মাওয়াসির ক্যাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড়, অনিরাপদ এবং দক্ষিণের হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত চাপের মুখে রয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার, আল-মাওয়াসিতে পানি আনার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পাঁচজন শিশু নিহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা ইসরাইলি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, তারা ওই ঘটনা পর্যালোচনা করছে।

এদিকে, সুসি টাওয়ারটি হলো টানা দুই দিনে ধ্বংস হওয়া দ্বিতীয় বহুতল ভবন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের আল-রিমাল এলাকায় অবস্থিত মুশতাহা টাওয়ারের নিচতলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ভবনটি ধসে পড়ে।

আইডিএফের দাবি, বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি কমাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল আগাম সতর্কতা ও ‘সুনির্দিষ্ট যুদ্ধাস্ত্রের’ ব্যবহার।

তবে ফিলিস্তিনিরা জানায়, মুশতাহা টাওয়ারে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল অভিযোগ করেন, ইসরাইল ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার নীতি’ অবলম্বন করছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত এক মাসে ইসরাইলি হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞে শহরের বেশ কিছু অংশের কিছু এলাকা একেবারেই ধংস হয়ে গেছে। গাজা সিটির আবাসিক ও বাণিজ্যিক টাওয়ারগুলো শহরের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতীক ছিল। যার সাথে জড়িয়ে ছিল ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ও একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গড়ার আশা।

১৯৯৩ সালে অসলো চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে গাজায় পাঁচতলারও বেশি বহুতল ভবন গড়ে উঠতে শুরু করে। যার ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নির্বাসন থেকে গাজা এবং পশ্চিমতীরের কিছু অংশে ফিরে আসতে শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে ইসরাইল গাজার বেশিভাগ এলাকা থেকে সরে যাওয়ার পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাবাসন বাড়তে থাকে। ফলে তখন শহরটি আরো সম্প্রসারিত হয়।

সে সময় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নির্মাণ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে। এমনকি, তখন ওই এলাকার পুরনো পাড়াগুলোর নামকরণও করা হয় টাওয়ারগুলোর নামে।

গত জুলাই মাসে হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতি ও পণবন্দী বিনিময় নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, ইসরাইল পুরো গাজা উপত্যকা দখল করবে।

জাতিসঙ্ঘের হিসাব বলছে, গাজা সিটিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ এখনো রয়ে গেছেন। গত মাসেই অঞ্চলটিতে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছিল। সংস্থাটি সতর্ক করে বলছে, হামলা চলমান থাকলে খুব দ্রুত আরো বড় ‘বিপর্যয়’ নেমে আসতে পারে।

সূত্র : বিবিসি