ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকের পর ইরানকে অবিলম্বে অঞ্চলজুড়ে চালানো ‘বাছবিচারহীন’ হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেন, এসব আক্রমণ বিশ্ব নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
ভিডিও সংযোগে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন। ইরান ইতোমধ্যে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর- বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ওমানের ওপর আক্রমণ বাড়িয়েছে।
বৈঠক শেষে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মন্ত্রীরা জিসিসি দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের অযৌক্তিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এসব হামলা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। তারা ইরানকে অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইরানের ‘বাছবিচারহীন’ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জিসিসি দেশগুলোর নিজেদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার রয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোর শহর ও অবকাঠামোতে আঘাত হানায় তেহরানের সাথে তাদের সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে সংকট সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির প্রতি নিজেদের ‘অটল প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইইউ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মন্ত্রীরা।
তারা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন ও বিস্তার বন্ধে একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজতে ‘যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা’ চালানোর অঙ্গীকার করেছেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস আগে বলেছিলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিরোধে সহায়তা করতে চায় ইউরোপীয় জোট। তবে সরঞ্জামের সরবরাহ সীমিত থাকতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বৈঠকের আগে ব্রাসেলসে কালাস সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য-উভয় অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদার কারণে ড্রোন প্রতিরোধক উৎপাদন চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, ‘সবারই এখন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন। তাই উৎপাদন নিয়ে সত্যিই সমস্যা রয়েছে।’
ইউরোপকে দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কালাস বলেন, ‘আমার আশঙ্কা হচ্ছে, সীমিত সক্ষমতা নিয়ে।’
সূত্র : এএফপি/বাসস



