ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধে গত মে মাস পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক কত ডলার খরচ হয়েছে? এই এক প্রশ্নেই একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়লেন পেন্টাগনের শীর্ষ পদের জন্য মনোনীত জুলস হার্স্ট। মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির শুনানিতে তিনি জানান, মে মাসের শেষ নাগাদ এই যুদ্ধের আনুমানিক খরচ দাঁড়িয়েছে ২৯ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। তবে এই হিসাবের মধ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো ধ্বংসের ক্ষয়ক্ষতি ধরা হয়নি। আর তাতেই ক্ষেপে গেছেন মার্কিন সিনেটররা। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এই খবর জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থী জুলস হার্স্টকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি (কম্পট্রোলার) পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। কিন্তু সিনেটের শুনানিতে হিসাবের এই গড়মিল নিয়ে সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং-এর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। কারণ, গত ২০ মে পর্যন্ত হার্স্ট নিজেই পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার এবং প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শুনানিতে মেইন অঙ্গরাজ্যের সিনেটর কিং সরাসরি হার্স্টকে চেপে ধরেন। তিনি বলেন, "মিডিয়া বা জনগণের কাছে আপনার এই ‘আমি কিছু জানি না’ মার্কা অজুহাত খাটবে না মিস্টার হার্স্ট। মাত্র সাত সপ্তাহ আগেও আপনি পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ছিলেন। আর আজ এখানে এসে বলছেন আপনি কিছুই জানেন না, হিসাব দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই! এটা রসিকতা ছাড়া আর কী? আপনি ভালো করেই জানতেন আজকের শুনানিতে এই প্রশ্ন আসবে। মার্কিন জনগণের পকেট থেকে এই ইরান যুদ্ধে ঠিক কত ডলার গেছে?"
হঠাৎ এমন কঠোর প্রশ্নে বিব্রত বোধ করেন জুলস হার্স্ট। কিছুটা হতভম্ব ও আমতা আমতা করে তিনি জবাব দেন, "আমি আগের শুনানিতে যা বলেছিলাম, এখনো তা-ই বলব। আমি যখন দায়িত্ব ছেড়েছি, তখন পর্যন্ত খরচ ছিল ২৯ বিলিয়ন ডলার। আমি যদি এই পদে চূড়ান্ত নিয়োগ পাই, তবে আরো নিখুঁতভাবে কাজ করব।"
কিন্তু সিনেটর কিং এখানেই থামেননি। তিনি জানতে চান, এই খরচের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব আছে কি না। জবাবে পুরোপুরি থতমত খেয়ে হার্স্ট স্বীকার করেন, "না সিনেটর, এর মধ্যে সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের খরচ ধরা হয়নি।" তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি উল্টো যুক্তি দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ বুঝিয়ে দিয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এখন মাটির নিচে আরো সুরক্ষিত ও শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি তৈরিতে টাকা ঢালতে হবে।
সিনেটর কিং তখন ক্ষোভের সাথে বলেন, তার মানে এই ২৯ বিলিয়ন ডলার কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের সরাসরি খরচ, যুদ্ধের আসল আর্থিক ধাক্কা এর চেয়ে অনেক বেশি। আপনি যে হিসাব দিচ্ছেন তা মূলত কেবল গোলাবারুদ আর অস্ত্র ব্যবহারের খরচ।
জুলস হার্স্টও শেষ পর্যন্ত তা মেনে নিতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, "হ্যাঁ, এই খরচের সিংহভাগই গোলাবারুদের পেছনে গেছে। আমার যতটুকু মনে পড়ে, ২০ বিলিয়ন ডলারেরই বেশি খরচ হয়েছে শুধু গোলাবারুদে। আর বাকি টাকা গেছে যুদ্ধ পরিচালনার পেছনে, যার মধ্যে জ্বালানি খরচও রয়েছে।"
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে আসার আগে নতুন কোনো হিসাবের খোঁজ নেননি হার্স্ট। সিনেটর কিং যখন জানতে চাইলেন তিনি নতুন কোনো তথ্য জোগাড় করেছিলেন কি না, তখন হার্স্ট দায়সারাভাবে বলেন, যেহেতু তিনি এখন আর ওই পদে নেই, তাই নতুন করে হিসাব চাওয়াটা তার কাছে অনুচিত মনে হয়েছে।
শুনানি শেষে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সিনেটর কিং বলেন, "আমেরিকার সাধারণ মানুষের জন্য এটা চরম হতাশাজনক। এই যুদ্ধ সাধারণ মানুষের পকেটের কত টাকা গিলছে, তার একটা সোজা সাপটা জবাবও আমরা পেন্টাগনের কাছ থেকে পাচ্ছি না।"



