নাজাফ ও কারবালায় শহীদ আয়াতুল্লাহ খামেনির তিন স্তরের অভূতপূর্ব জানাজার প্রস্তুতি

'‌এই আয়োজনটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে এবং এর একটি বড় প্রভাব থাকবে।'

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আলি খামেনির শোক শোভাযাত্রার জনতার একাংশ
আলি খামেনির শোক শোভাযাত্রার জনতার একাংশ |সংগৃহীত

শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জন্য ইরাকে তিন স্তরের এক অভূতপূর্ব জানাজা ও শোকশোভাযাত্রার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নাজাফ শহরে সরকারি আনুষ্ঠানিকতা শেষে কারবালাসহ ইরাকের পবিত্র শহরজুড়ে এই শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। কঠোর নিরাপত্তা ও ব্যাপক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইরাকি কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাকে অনুষ্ঠিত অন্যতম বৃহত্তম জনসমাগম এই শোক শোভযাত্রার মাধ্যমে ঘটবে।

কারবালার গভর্নর এবং প্রদেশের উচ্চতর নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান নাসিফ জসিম আল-খাত্তাবি এই জানাজাকে একটি বিশাল ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “এই আয়োজনটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে এবং এর একটি বড় প্রভাব থাকবে।”

তিনি ধারণা করছেন, কারবালায় ব্যতিক্রমী রকমের বিপুল সংখ্যক শোকাতুর মানুষের সমাগম হবে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, এই আরব দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ জানাজায় অংশ নিতে পবিত্র শহরে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন।

গভর্নর আরও উল্লেখ করেন, “জানাজাটি তিন স্তরে অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি সরকারি শোকঅনুষ্ঠান হবে, এরপর বুধবার সকালে নাজাফে আরেকটি জানাজা এবং সবশেষে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় কারবালায় শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।”

ইরানের ইংরেজি নিউজ চ্যানেল প্রেসটিভি(৭ জুলাই) জানিয়েছে, শহীদ নেতার এই মহিমান্বিত জানাজা যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা যাতে আগত অতিথিদের আপ্যায়ন ও সেবা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন, সেজন্য বুধবার কারবালায় স্থানীয় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে, ইরাকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি মঙ্গলবার নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শহীদ নেতার লাশ গ্রহণ করবেন। বিমানবন্দরে ‘উম্মাহর নেতা’র এই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ইরাকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এর আগে আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজার তদারকির দায়িত্বে থাকা ইরাকি কমিটি জানিয়েছিল যে, নাজাফে শহীদ নেতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ এবং কারবালায় সর্বসাধারণের শোক শোভাযাত্রার সব ধরনের প্রস্তুতি ও সমন্বয় শেষ হয়েছে।

কমিটির মুখপাত্র মেজর জেনারেল সাদ মান বলেন, “ইসলামী উম্মাহর নেতার রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরাকি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও উপস্থিত থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বুধবার বিকেল ৪টায় কারবালায় সর্বসাধারণের শোক শোভাযাত্রা শুরু হবে।” ইরাকের একজন সিনিয়র ধর্মীয় নেতা মনে করেন, ইরাকে আয়াতুল্লাহ খামেনির এই জানাজা ও শোক শোভাযাত্রা ইরাকি ও ইরানি জনগণের মধ্যকার গভীর সংহতির বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।

নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়ে কমিটির মুখপাত্র আরও জানান যে, সমস্ত নিরাপত্তা ইউনিট এবং সেনাবাহিনীর বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ তদারকি করতে নিয়মিত বৈঠক চলছে।

সূত্র: প্রেসটিভি