পশ্চিমতীরে বাড়িঘর দখল করছে ইসরাইলি বাহিনী, কারফিউ জারি

ইসরাইলি বাহিনী বেশ কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করেছে এবং বাড়িগুলোকে সামরিক জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে রূপান্তরিত করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পশ্চিমতীরের কাবাতিয়াতে ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক যান
পশ্চিমতীরের কাবাতিয়াতে ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক যান |সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিমতীরের কাবাতিয়া শহরে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো ইসরায়েলি বাহিনী গণগ্রেফতার চালিয়েছে এবং কয়েক ডজন পরিবারকে তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, শনিবার ইসরাইলি বাহিনী কাবাতিয়ার প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং কয়েক ডজন বাসিন্দাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, তারা বেশ কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করেছে এবং বাড়িগুলোকে সামরিক জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে রূপান্তরিত করেছে।

শনিবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, তারা কাবাতিয়ার চারপাশে কারফিউ জারি করেছে।

কাটজের ‘কাবাতিয়া গ্রামের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার’ নির্দেশের পর এই দমনপীড়ন শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে ছুরিকাঘাত ও গাড়ি চাপা দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত এক ফিলিস্তিনি সেখান থেকেই এসেছেন।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কাবাতিয়ায় সীমান্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী শিন বেতের সদস্যদের সাথে একাধিক বিভাগের সৈন্য মোতায়েন করেছে। তাদের দাবি, তারা হামলাকারী সন্দেহভাজনের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে এবং এটি ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলার বিষয়ে ইসরাইলের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে। তারা একে সম্মিলিত শাস্তির একটি অবৈধ রূপ আখ্যা দিয়েছে।

ওয়াফা জানিয়েছে, শনিবার ইসরাইলি বাহিনী পশ্চিমতীরের অন্যান্য স্থানেও অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে রামাল্লাহ ও হেবরনের আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হেবরনের কাছে ডুরা, আবদা ও ইমরেইশ শহর থেকে ইসরাইলি বাহিনী আটজনকে গ্রেফতার করেছে।

সূত্র : আল জাজিরা