হরমুজ প্রণালী ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন করে হামলা শুরু করেছে, তা কোনো সুনির্দিষ্ট রণকৌশলের অংশ নয়; বরং নিছক প্রতিশোধ চরিতার্থ । মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ তেহরানকে আলোচনার টেবিলে তো ফেরাতেই পারছে না, উল্টো অচল করে দিচ্ছে শান্তির পথ। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী সহ-সভাপতি ত্রিতা পারসির আসল কথা এটিই।
আল জাজিরা বুধবার (২৯ জুলাই) জানায়, তিনি বলেছেন যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা মার্কিন প্রশাসনের এক মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত ।
কৌশলের অভাব নাকি কেবল প্রতিশোধ?
ত্রিতা পারসি আল জাজিরাকে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'এই হামলার পেছনে লক্ষ্য আসলে কী? কারণ, এতে ইরানকে এখনো আলোচনার টেবিলে ফেরানো সম্ভব হয়নি। প্রতিশোধ নেয়া ছাড়া মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পেছনে অন্য কোনো স্পষ্ট উদ্দেশ্য অন্তত এই মুহূর্তে চোখে পড়ছে না। তাই সংঘাতের এই নতুন আগুন উসকে দেয়া স্পষ্টতই এক বড় ভুল।'
তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে এখন সামরিক দিক থেকে কার্যকর কোনো ভালো পথ খোলা নেই। প্রায় ১৩ দিন ধরে এক নাগাড়ে বোমা হামলার চালানোর পর এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে—এই প্রচারণার পেছনে বাস্তবমুখী কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। মার্কিন নীতি নির্ধারণে এমন অদূরদর্শিতা সত্যিই অবাক করার মতো। 'আমেরিকাকে সামরিক বিকল্পগুলোর ব্যর্থতা অনুধাবন করাতে না পারলে ডিপ্লোমেসি বা কূটনীতির পথ খুলে দেয়া অসম্ভব', তিনি বলেন।
ইরানের প্রতিক্রিয়া: প্রতিরোধের অংক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের জবাবে ইরান যে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও কিন্তু কোনো আবেগী সিদ্ধান্ত নয়। পারসির মতে, তেহরানের এই অবস্থান আসলে 'ডিটারেন্স' বা শত্রুকে থামিয়ে দেয়ার অংক কষা কৌশল।
ইরানি নীতিনির্ধারকরা ধরে নিয়েছেন, ওয়াশিংটন সামরিক বিকল্পগুলোকে অকার্যকর না ভাবা পর্যন্ত কোনো আলোচনায় আন্তরিক হবে না। তাই টেকসই শান্তির পথ পেতে হলে আগে প্রতিপক্ষের সামরিক অহংকার ভাঙতে হবে। সংঘাত থামিয়ে কূটনীতি ফিরিয়ে আনার এটিই একমাত্র কঠিন রাস্তা।



