লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইলের হামলা তীব্র হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দেশটিতে একের পর এক বোমাবর্ষণে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে ।
একই সাথে দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করেছে ইসরাইল।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি বৃহস্পতিবার জানায়, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন। তারা সিডন ও টায়ার সংযোগকারী আদলুন মহাসড়ক দিয়ে পালানোর সময় ইসরাইলি ড্রোন হামলার শিকার হন।
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, সড়ক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে ইসরাইল। একই সঙ্গে তিন সপ্তাহ পর রাজধানী বৈরুতেও হামলা চালানো হয়েছে।
দক্ষিণ বৈরুতের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। ইসরাইলি গণমাধ্যমের দাবি, এটি ছিল একটি গুপ্তহত্যা প্রচেষ্টা। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
দক্ষিণ বৈরুতকে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এদিকে শান্তি আলোচনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় রাজধানীতে হামলা না চালাতে ইসরাইলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নাবাতিয়া এলাকায় ইসরাইলি হামলায় তাদের এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবানন ও পশ্চিম বেকা উপত্যকায় একাধিক হামলায় আরো সেনা নিহত হয়েছেন।
এর আগে ইসরাইল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের শহর টায়ার ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তাদের সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যেতে বলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই নির্দেশনার পর হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছাড়তে শুরু করেছেন।
টায়ার শহরে রাতভর একাধিক বিমান হামলার ঘটনায় একটি ভবন ও একটি ক্যাফেতে আগুন লাগে। ধ্বংসস্তূপের নিচে হতাহতদের খুঁজতে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইসরাইল দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে হামলায় বেসামরিক এলাকা ও জনবহুল স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো টায়ার থেকে জানান, মধ্যরাতের পর থেকে শহর ও আশপাশে এক ডজনের বেশি হামলা হয়েছে। আতঙ্কে অধিকাংশ মানুষ শহর ছেড়ে চলে গেছেন।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি সতর্ক করে বলেছে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলার কারণে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
বৈরুত থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইনা খোদর জানান, গত মাসে কার্যকর হওয়া মার্কিন মধ্যস্থতাকারী যুদ্ধবিরতি কার্যত সহিংসতা থামাতে পারেনি। বরং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে সবচেয়ে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ চালিয়েছে ইসরাইল।
সূত্র : আল জাজিরা



