গাজা যুদ্ধে এতিম ষাট হাজারের বেশি শিশু

এতিম হওয়া শিশুদের মধ্যে ৫২,০৯৫ জন হারিয়েছে তাদের বাবাকে, আর ৫,৯২৯ জন শিশু হারিয়েছে মাকে। সবচেয়ে করুণ পরিণতি হয়েছে ২,৭১৩ জন শিশুর, যারা একই সাথে বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে পুরোপুরি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গাজার শিশুদের আর্তনাদ
গাজার শিশুদের আর্তনাদ |সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৬০,৭৩৭ জন শিশু তাদের বাবা বা মায়ের অন্তত একজনকে হারিয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে হৃদয়বিদারক এই তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক হামলায় গাজার হাজার হাজার শিশুর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এতিম হওয়া শিশুদের মধ্যে ৫২,০৯৫ জন হারিয়েছে তাদের বাবাকে, আর ৫,৯২৯ জন শিশু হারিয়েছে মাকে। সবচেয়ে করুণ পরিণতি হয়েছে ২,৭১৩ জন শিশুর, যারা একই সাথে বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে পুরোপুরি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। বাবা-মা বা অভিভাবকদের এভাবে হঠাৎ হারিয়ে ফেলা বা চিরতরে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়াকে বিজ্ঞানের ভাষায় তীব্র মানসিক আঘাত বা ‘ট্রমা’ বলা হয়। যুদ্ধক্ষেত্রের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শিশুদের বিকাশ ও মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

মুছে যাচ্ছে পুরো পরিবার

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কেবল শিশুদের এতিম করেই ক্ষান্ত হয়নি এই সংঘাত; এর প্রভাবে ২,২৭৬টি পরিবার গাজার বেসামরিক নিবন্ধন তালিকা বা নাগরিক পঞ্জি থেকে চিরতরে মুছে গেছে। পরিবারের সকল সদস্য মারা যাওয়ায় এই পরিবারগুলোর মোট ৮,৮৫৮ জন মানুষের আর কোনো আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্বই অবশিষ্ট নেই।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের প্রাণঘাতী হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩,০০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে একটি নামকাওয়াস্তে 'যুদ্ধবিরতি' বা সাময়িক আক্রমণ বন্ধের চুক্তি হলেও গাজাজুড়ে ইসরাইলি হামলা থেমে নেই। সেই চুক্তির পর থেকেও অব্যাহত হামলায় ১,১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার বড় একটি অংশই শিশু। বারবার এই রক্তক্ষয়ী আঘাত দেওয়ার ফলে গাজার সম্পূর্ণ একটি প্রজন্মের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা ও মানসিক সুস্থতা আজ চরম হুমকির মুখে পড়েছে।