গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে হামাসের ইতিবাচক সাড়া

ধারণা করা হচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় হামাস ১০ জন জীবিত ইসরাইলি পণবন্দীকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেবে এবং আরো ১৮ পণবন্দীর লাশ ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করবে। এর বিনিময়ে ইসরাইলের কারাগারে আটক থাকা ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেয়া হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা |সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস জানিয়েছে, তারা গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী প্রস্তাবের ‘ইতিবাচক’ জবাব দিয়েছে। ফলে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর নৃশংস আক্রমণ বন্ধে সম্ভাব্য অগ্রগতির আশা দেখা দিয়েছে।

হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের কাছে একটি ইতিবাচক জবাব জমা দিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার নতুন পর্বে তাৎক্ষণিকভাবে অংশ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত আছে।

শনিবার (৫ জুলাই) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আলোচনার সাথে পরিচিত একজন জ্যেষ্ঠ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, হামাস চুক্তির সামগ্রিক কাঠামোটি মেনে নিয়েছে। কিন্তু তারা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর অনুরোধ জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০ মাস ধরা চলা এ যুদ্ধ স্থায়ীভাবে থামানো নিয়ে আলোচনা ভেঙে পড়লে আবার হামলা শুরু করা যাবে না- যুক্তরাষ্ট্রকে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে। তিনি আরো বলেন, এটা ভালো যে হামাস জানিয়েছে, তারা মার্কিন মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সাড়া দিয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার তিনি বলেছিলেন, ইসরাইল ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির জন্য ‘প্রয়োজনীয় শর্তাবলী’ মেনে নিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উভয়পক্ষ যুদ্ধ শেষ করার জন্য কাজ করবে। তিনি হামাসকে চূড়ান্ত প্রস্তাব মেনে নেয়ার আহ্বান জানান এবং দলটিকে সতর্ক করে বলেন, এর (নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি) চেয়ে ভালো কিছু আর আসবে না। বরং পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় হামাস ১০ জন জীবিত ইসরাইলি পণবন্দীকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেবে এবং আরো ১৮ পণবন্দীর লাশ ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করবে। এর বিনিময়ে ইসরাইলের কারাগারে আটক থাকা ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেয়া হবে। এখনো প্রায় ৫০ জন পণবন্দী গাজায় আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন জীবিত আছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির অংশগ্রহণে গাজায় পর্যাপ্ত পরিমাণ মানবিক সহায়তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রবেশ করবে।

ফিলিস্তিনের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, হামাস দাবি জানিয়েছে, মানবিক সহায়তা কেবলমাত্র জাতিসঙ্ঘ ও তার অংশীদারদের মাধ্যমেই বিতরণ করা হোক এবং ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) বিতর্কিত বিতরণ কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। হামাসের দাবি করা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার।