ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দুই সক্রিয় গুপ্তচর ইয়াকুব করিমপুর ও নাসের বকরজাদাহর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিল আবেদন খারিজ হওয়ার পর শনিবার (২ মে) সকালে আইনি প্রক্রিয়া মেনে এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা দীর্ঘ সময় ধরে মোসাদের হয়ে কাজ করে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনার গোপন তথ্য পাচার এবং দেশটিতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন।
ইয়াকুব মোসাদ কর্মকর্তাদের নির্দেশে ইরানের পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে ভুয়া তথ্য সরবরাহ করতেন এবং বিভিন্ন স্পর্শকাতর সামরিক ঘাঁটির ছবি ও ভিডিও পাচার করতেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, মোসাদ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে ‘আরাশ’, ‘মেহেদি’ বা ‘মোহাম্মদ’ ছদ্মনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামের মাধ্যমে নির্দেশনা দিতেন।
প্রথমে পতাকা পোড়ানোর মতো ছোট কাজ দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তাকে দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে বোমা বিস্ফোরণ এবং এটিএম বুথে আগুন দেয়ার মতো ভয়াবহ কাজ করানো হয়। এমনকি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি ড্রোনের মিথ্যা খবর রটিয়ে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে তাদের মূল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করতেন। বিনিময়ে ডিজিটাল ওয়ালেটে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেত ইয়াকুব।
অন্যদিকে, নাসের বকরজাদাহ নিজেকে এক জাপানি পর্যটন সংস্থার কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়া এক মোসাদ গুপ্তচরের ফাঁদে পা দেন। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ‘হাশেম’ নামে মোসাদের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। শুরুতে সাধারণ পর্যটন কেন্দ্রের তথ্য দেয়ার কথা থাকলেও পরে তিনি ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রসহ তেহরান, কেরমানশাহ ও ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের সরকারি দফতর এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিভাগের মতো সংবেদনশীল স্থাপনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পাচার করেন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের গতিবিধির তথ্যও তিনি ইরানের শত্রুদের দিয়েছিলেন।
আদালতে শুনানির সময় আসামিদের আইনজীবীরা উপস্থিত থাকলেও সব তথ্য-প্রমাণ ও দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
ইরানের বিচার বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, যারা বিদেশী শক্তির হয়ে দেশের মানুষের জীবন হুমকির মুখে ফেলবে এবং বিশ্বাসঘাতকতা করবে, তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। ইসরাইল সাইবার জগত ও ভুয়া প্রলোভন ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে যে নাশকতার জাল বিস্তারের চেষ্টা করছে, এই দুই গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মাধ্যমে তাদের সেই ষড়যন্ত্র আরো একবার ধূলিসাৎ করে দেয়া হলো।
সূত্র: তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি



