ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মেয়াদের তৃতীয় বছরে পা দেয়ার আগেভাগে, জুলাইয়ের শেষের দিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সাথে বৈঠক করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এই বৈঠকে সামরিক বিষয়াদি ও অর্থনীতি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় সম্পদ সুনিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রা ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং বিদেশি সহযোগীদের সাথে অর্থনৈতিক চুক্তি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স রোববার (৯ আগস্ট) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, এর আগে গত মে মাসেও তাঁদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়েছিল, যা ছিল মোজতবা সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রকাশ্যে আসা তাঁদের প্রথম আলোচনা।
তবে খামেনির সাথে যোগাযোগের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। গত ২১ জুলাই তিনি জানান, সর্বোচ্চ নেতার সাথে যোগাযোগ দিন দিন বাড়ছে। অথচ আগস্টের শুরুতেই তিনি বলেছিলেন, খামেনির সাথে যোগাযোগ রাখা অত্যন্ত কঠিন।
গত মার্চে বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইল হামলায় তাঁর বাবা ও তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি শহীদ হন। সেই একই হামলায় মোজতবা গুরুতর আহত হন বলে খবর রটে। তাছাড়া সর্বোচ্চ পদ নেয়ার আগেও তিনি নিজেকে জনসমক্ষে খুব একটা আনতেন না।
এদিকে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসি পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবক ও আধা সামরিক বাহিনী বাসিজ সংগঠনের উপপ্রধান কাসেম কোরাইশি জানান, খামেনির ছবি ও ভিডিও দ্রুত প্রকাশ করা হবে। এতে তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে রাস্তায় এবং সামরিক বাহিনীর অধিনায়কদের সাথে বৈঠকে কীভাবে অংশ নিচ্ছেন, তা দেখা যাবে। কোরাইশির বলেন, এই ফুটেজ ইরানের শত্রু ও সমালোচকদের মিথ্যা রটনা আবারও নস্যাৎ করে দেবে। মূলতঃ খামেনির স্বাস্থ্য ও আড়ালে থাকা নিয়ে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন আর জল্পনা থামাতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।



