আসাদের পতনের পর সিরিয়ায় সামরিক বিমানবন্দরে হামলা

সিরিয়ায় ইরানের প্রভাবের কারণে ইসরাইল অতীতে মূলত দেশটির দক্ষিণাঞ্চল এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু আবু আল-জুহুর বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলা নতুন করে ইসরাইলি হামলার পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর প্রথমবারের মতো দেশটির উত্তরাঞ্চলের ইদলিব প্রদেশে অবস্থিত আবু আল-জুহুর সামরিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা হয়েছে। বিমানবন্দরটি লক্ষ্য করে চারটি হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে হামলার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। হামলায় ব্যবহৃত বিমানগুলোর পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কিছু সূত্রের দাবি, হামলায় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান জড়িত থাকতে পারে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে সিরিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে আলেপ্পো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নায়রাব সামরিক বিমানবন্দর, হোমসের আল-শাইরাত বিমানবন্দর এবং মধ্য সিরিয়ার তিয়াস ও আল-দাবা বিমানবন্দর। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আল-আসাদ সরকারের পতনের পর আবু আল-জুহুর বিমানবন্দর এই প্রথম হামলার লক্ষ্যবস্তু হলো।

আসাদ সরকারের পতনের আগে বিমানবন্দরটি সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সাবেক সরকারপন্থী বাহিনীর মধ্যে সঙ্ঘাতের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। ওই সময় বিমানবন্দরটির নিয়ন্ত্রণ কয়েক দফা হাতবদল হয়।

সিরিয়ায় ইরানের প্রভাবের কারণে ইসরাইল অতীতে মূলত দেশটির দক্ষিণাঞ্চল এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু আবু আল-জুহুর বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলা নতুন করে ইসরাইলি হামলার পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তবে হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কী কারণে বিমানবন্দরটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

সূত্র : আল জাজিরা