গাজা, লেবানন এবং ইরান—এই তিন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে ইসরাইলের ওপর মার্কিন চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের মতপার্থক্য ও দূরত্ব এখন আরো গভীর রূপ নিয়েছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর বরাতে মিডলইস্ট মনিটর সোমবার (১০ আগস্ট) এই খবর জানিয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বা সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার শনিবার ইসরাইল সফরে এসে ওয়াশিংটনের স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র চায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিন ফ্রন্টের যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটুক এবং কার্যকর সমাধান আসুক।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার কৌশলগত চুক্তি ও নিরাপত্তা আলোচনার টেবিলে কিছু বিষয়ে বড় ধরনের দ্বিমত দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন চায় দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চল বা সিকিউরিটি জোন থেকে ইসরাইলি বাহিনী তাদের অতিরিক্ত অবস্থানগুলো গুটিয়ে নিক এবং সৈন্য প্রত্যাহার করুক। পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাবে গতি ফেরাতে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বহুজাতিক বাহিনীতে ইতিমধ্যে মরক্কো এবং উগান্ডার কয়েকশো সৈন্য যুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ শেষ করা ও চুক্তি মেনে চলার শর্ত নিয়ে তেল আবিবের অবস্থান বেশ কঠোর। ইসরাইলের সামরিক কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বাড়ানো বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা আবার পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করে, তবে তেল আবিবের দাবি, নিজ সুরক্ষায় যখন-তখন ইরানে হামলা চালানোর অধিকার ইসরাইলের থাকবে।
এছাড়া, গাজা উপত্যকায় যেকোনো অভিযান সীমিত করা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে গুপ্তহত্যা না করার নির্দেশ বা বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রস্তাবে ইসরাইলি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বেজায় ক্ষুব্ধ। প্রস্তাবের লিখিত খসড়ায় সরাসরি এসব শর্ত না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের এই অদৃশ্য চাপে ইসরাইলের রাজনৈতিক নেতাদের কাছে নিজেদের চরম অসন্তোষের কথা জানিয়েছে দেশটির সামরিক নীতিনির্ধারকেরা।



