লন্ডনে ফিলিস্তিনি দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

ব্রিটেন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার চার মাস পর লন্ডনে দেশটির দূতাবাস খোলা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
লন্ডনে ফিলিস্তিনি দূতাবাস
লন্ডনে ফিলিস্তিনি দূতাবাস |সংগৃহীত

ব্রিটেন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার চার মাস পর লন্ডনে দেশটির দূতাবাস খোলা হয়েছে। উদ্বোধনের সময় একদল কূটনীতিক এবং ফিলিস্তিনের সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হোসাম জোমলাত সোমবার ফিলিস্তিনি দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বলেন যে ভবনটি ‘ব্রিটিশ মাটিতে ফিলিস্তিনের এক টুকরো’ এবং এটি ‘শান্তি, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের অবিরাম প্রচেষ্টার প্রতীক।’

জোমলাত বলেন, ‘ফিলিস্তিন দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং ফিলিস্তিন স্বাধীন হবে।’ তার বক্তৃতার অন্য অংশে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত দূতাবাস খোলাকে ‘ফিলিস্তিনি পরিচয়ের ধারাবাহিকতার’ লক্ষণ এবং গাজা, পশ্চিমতীর ও শরণার্থী শিবিরে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য প্রতিরোধের বার্তা বলে মনে করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের দখলদারিত্বের অবসান এবং তাদের বৈধ অধিকার আদায়ের দীর্ঘস্থায়ী দাবিকে এজেন্ডা থেকে সরিয়ে দেয় না।

এরপর জোমলাত দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন করে ফিলিস্তিনি দফতরকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দূতাবাসে রূপান্তরের ঘোষণা দেন। কূটনৈতিক অনুশীলনের এই পরিবর্তনকে ফিলিস্তিনি মিশনের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং দূতাবাস হিসেবে পরিচালিত উভয় পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করার মাধ্যমে দেখা হয়।

লন্ডনে ফিলিস্তিনি দূতাবাস খোলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটে, যখন প্রায় চার মাস আগে ব্রিটিশ সরকার একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

লন্ডন পূর্বে শর্ত দিয়েছিল যে গাজার মানবিক সঙ্কট শেষ না হলে এবং ইসরাইলি সরকার যুদ্ধবিরতি মেনে না নিলে তারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে, তারপর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

তবুও পশ্চিমা নীতির সমালোচকরা বলছেন যে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও আইন রক্ষার দাবি এবং ফিলিস্তিনি ইস্যুতে পশ্চিমা শক্তিগুলির ব্যবহারিক আচরণের মধ্যে ব্যবধান এখনো শক্তিশালী। ইসাইলের প্রতি অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থনের সাথে এই ঘটনাগুলির মিল মানবাধিকার স্লোগানের আন্তরিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন যে দূতাবাস খোলার অর্থ সঙ্কটের অবসান নয়। ফিলিস্তিনি সমস্যাটি রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়নের কার্যকর ইচ্ছাশক্তির অভাবের মধ্যে আটকে রয়েছে।

সূত্র : পার্সটুডে