ইরানের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে চললেও, দেশটি মার্কিন সামরিক হামলা থেকে মুক্ত নয় বলে আবারো কড়া হুমকি দেয়া হয়েছে। সোমবার ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রয়োজন হলে ইরানে আবারো সরাসরি সামরিক আঘাত হানতে কোনো দ্বিধা করবে না যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, সামরিক হামলা স্থগিত করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি সাফ জানান, 'না, হামলা বন্ধ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের যদি আবার আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয়, তবে আমরা তা-ই করব।'
উইসকনসিনের ওশকোশে প্রতিরক্ষা খাতের শিল্পকর্মীদের উদ্দেশ্যে এক বক্তব্যে হেগসেথ মার্কিন ঠিকাদারদের 'যুদ্ধের প্রস্তুতি' নেয়ার নির্দেশ দেন। বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর সুরে তিনি বলেন, 'ইরান যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয় বা মার্কিন বাহিনীর সাথে সংঘাত তৈরি করার চেষ্টা করে, তবে আমরা যা করার প্রয়োজন তা-ই করব।'
হেগসেথ আরও দাবি করেন, অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে মার্কিন চাপ ইরানের অর্থনীতির ওপর সবচেয়ে বেশি আঘাত হানছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পথ থেকে সরে এসেছে। হরমুজ প্রণালী কিংবা ইরানের আশেপাশের যেকোনো এলাকায় মার্কিন আঘাত প্রতিহত করার সক্ষমতা কতটুকু, সে প্রশ্ন তুলেও তিনি হুঁশিয়ারি বজায় রাখেন।
এমনকি আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার একতরফা দাবি করে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটনের তথাকথিত 'লৌহকঠিন' অবরোধের কারণে ইরান ওই নৌপথ দিয়ে তেল পাঠাতে ব্যর্থ হচ্ছে, আর মার্কিন বাহিনী অবাধে নিজেদের নৌযানকে সুরক্ষা দিচ্ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও তার মিত্র মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া বিশ্বজুড়ে তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট বাড়ানোর তোড়জোড় থেমে নেই। প্রতিরক্ষা বাবদ কাঙ্ক্ষিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের পুরো তহবিল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছ থেকে পাওয়া যাবে বলে হেগসেথ আশাবাদ প্রকাশ করেন। এছাড়া দীর্ঘকালের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মওজুদ শেষ হওয়ার খবর অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, পেন্টাগনের হাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র বিদ্যমান রয়েছে।
অন্যদিকে দীর্ঘ ও বিতর্কিত অভিযান শেষে বিতর্কিত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন শেষপর্যন্ত নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন হেগসেথ। টানা আট মাসেরও বেশি সময় কোনো বন্দরে না ভিড়ে কাজ করায় নাবিকদের ভেঙে পড়া মনোবল ও অভ্যন্তরীণ চরম দুর্দশার অভিযোগ সামনে এলেও ওয়াশিংটন সেসব ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।



