যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন করে একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। প্রস্তাবিত এই চুক্তি কার্যকর হলে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো ৬০ দিন বাড়তে পারে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার পথ খুলবে।
তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেননি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। একই সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও বলছে, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
চুক্তির সম্ভাব্য কাঠামো
নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন চুক্তি হলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি আরো দুই মাস বাড়ানো হতে পারে। এ সময় হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে।
একটি সূত্র জানায়, “চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হবে এবং আলোচকরা জটিল রাজনৈতিক ইস্যু সমাধানে কাজ করার সময় পাবেন।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর এ উদ্যোগকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শান্তি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমিত হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন অবস্থান ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, “আমরা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাইনি, তবে আমরা বেশ কাছাকাছি আছি।” তিনি আরো বলেন, চুক্তি নিশ্চিতভাবে হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়, তবে অগ্রগতি নিয়ে তারা আশাবাদী।
অন্যদিকে ইরান এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশটির আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, খসড়া চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
হরমুজ প্রণালী ও বৈশ্বিক প্রভাব
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু বন্দরসংক্রান্ত অবরোধ ও তেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সম্ভাব্য চুক্তির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ইতিমধ্যেই কিছুটা পতন দেখা গেছে।
সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত
চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেও দুই পক্ষের মধ্যে সীমিত সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান ও তাদের সমর্থিত বাহিনী পাল্টা প্রতিক্রিয়ার দাবি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করেছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এ দাবি অস্বীকার করেছেন।
মধ্যস্থতা ও আঞ্চলিক ভূমিকা
এ সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানও কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যদিকে ওমানের ভূমিকাও আলোচনায় এসেছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে সম্ভাব্য শুল্ক বা নীতিগত পরিবর্তন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই আলোচনা সফল হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে, তবে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, যুদ্ধবিরতি ৬০ দিন বাড়ার সম্ভাবনা।
সূত্র : রয়টার্স



