গাজামুখী ফ্লোটিলায় ইসরাইলি বাধার প্রতিবাদে দেশে দেশে বিক্ষোভ-ভাঙচুর

গাজার জন্য মানবিক সহায়তা বহনকারী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরাইলি বাহিনীর বাধার প্রতিবাদে দেশে দেশে বিক্ষোভ চলছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গাজামুখী ফ্লোটিলা
গাজামুখী ফ্লোটিলা |বাসস

গাজার জন্য মানবিক সহায়তা বহনকারী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরাইলি বাহিনীর বাধার প্রতিবাদে দেশে দেশে বিক্ষোভ চলছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে বৃহস্পতিবার এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সঙ্গে ইউরোপীয় সরকারগুলোর কাছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান।

গাজায় ইসরাইলের অবরোধকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গত মাসে বার্সেলোনা থেকে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা যাত্রা শুরু করে। প্রায় দুই বছর ধরে চলমান ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের কারণে জাতিসংঘ গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। বুধবার থেকে ইসরাইল নৌবাহিনী ফ্লোটিলাকে আটক করে এবং গাজা উপকূলে পৌঁছাতে বাধা দেয়।

বৃহস্পতিবার ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, ৪ শতাধিক মানুষসহ ৪১টি জাহাজ ইসরাইলি নৌবাহিনী আটকে দিয়েছে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে। যাদের মধ্যে রাজনীতিবিদ ও জলবায়ু গ্রেটা থুনবার্গও আছেন।

বার্সেলোনায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলকারীরা ‘ইউ আর নট এ্যালোন’, ‘বয়কট ইসরাইল’ এবং ‘ফ্রিডম ফর প্যালেস্টাইন’-এর মতো স্লোগান দেন।

স্পেনের সরকারি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড ভাঙ্গার চেষ্টা করলে দাঙ্গা পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে।

বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আদা কোলাউ যেই জাহাজে ছিলেন সেটিও থামানো হয়েছে। কোলাউ এবং তার সাথে থাকা প্রতিবাদকারীদের ইসরাইল থেকে বের করে দেয়ার (ডিপোর্ট) সম্ভাবনা রয়েছে। যাদের মধ্যে নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলাও রয়েছেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন মাদ্রিদে প্রায় ১০ হাজার অংশগ্রহণকারী একই রকম প্রতিবাদে অংশ নেয়।

বিলবাও, সেভিয়া এবং ভ্যালেন্সিয়াসহ অন্যান্য স্প্যানিশ শহরেও বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এএফপি’র এক সাংবাদিক জানান, প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিকের সামনে প্রায় এক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। দক্ষিণ ফ্রান্সের বন্দরের শহর মার্সেইলে প্রায় ১০০ ফিলিস্তিন সমর্থককে আটক করা হয়েছে। তারা ইসরাইলে সামরিক উপকরণ বিক্রির অভিযোগে ইউরোলিঙ্কস নামের অস্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থার অফিসে প্রবেশ রোধ করার চেষ্টা করেছিল।

ইতালিতে শুক্রবার ফ্লোটিলার প্রতি সংহতি জানিয়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে প্রধান শ্রমিক ইউনিয়নগুলো। অন্যদিকে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে প্রধানমন্ত্রী জিওর্জিয়া মেলোনিকে তাদেরকে রক্ষার আহ্বান জানায়।

বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেয়, ‘আমরা সবকিছু বন্ধ করতে প্রস্তুত। গণহত্যার যন্ত্রটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’

বিক্ষোভকারীদের একজন ৭৬ বছর বয়সী জিয়ানফ্রানেকা পাগ্রিয়ারুলো। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মেলনি যথেষ্ট পদক্ষেপ নেননি।’

ইতালি ফ্লোটিলার সুরক্ষার জন্য একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জাহাজগুলোকে ফিরতে বলেছিলেন। তাই সেটি ত্রাণবাহী নৌবহরকে ইসরাইলের অবরোধ অতিক্রম করতে সাহায্য করেনি।

পাগ্রিয়ারুলো আরো বলেন, ‘অভিযুক্তদের রক্ষা করার পরিবর্তে, সরকার ভুক্তভোগীদের রক্ষা করছে, যা সহ্য করা যায় না।’

ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সামনেও প্রায় ৩ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে।

আইসিস নামে একজন প্রতিবাদকারীএফপিটিভিকে বলেন, ‘প্রতিটি জাহাজকে রক্ষা করতে হবে।’ তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অনুরোধ করেন, চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইলের বিশাল অথ সহায়র্তা বন্ধ করার।

জেনেভাতে একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ছিল তরুণ। এএফপি’র এক সাংবাদিক এবং সুইস সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিবাদকারীরা কেন্দ্রীয় স্টেশনের কাছে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তারা লেক জেনেভার শেষ সীমায় অবস্থিত মন্ট ব্ল্যাঙ্ক ব্রিজে যান। সেখানে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ৪৩ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী ইলি ফারহান বলেন, ‘আমরা রাগান্বিত, তারতোা শুধু ত্রাণ ও শিশুখাদ্য নিয়ে গেছে, এই আটক অবিচার।’

বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্লোটিলাকে রক্ষার আহবান এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বৃহস্পতিবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, মানবাধিকার কর্মীরা গাজায় আক্রমণের শিকার ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করার জন্য ত্রাণবহরে উঠেছিল। 

সূত্র : এএফপি/বাসস