ইউরোপীয় কোম্পানির তালিকা ও নিরাপত্তা কোড ফাঁস

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গোপন যোগাযোগ ব্যবস্থায় ধস

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে ইতালীয় কোম্পানি ‘এনেগান এসপিএ’-কে নিয়ে। কোম্পানিটি বাইরে নিজেদের জ্বালানি সাশ্রয় বা এনার্জি এফিসিয়েন্সি নিয়ে কাজ করা সংস্থা হিসেবে পরিচয় দিলেও আদতে তারা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর টেলিকমিউনিকেশন সেবা দিতে পর্দার আড়াল থেকে কাজ করছে

সৈয়দ মূসা রেজা
ইউরোপের বিভিন্ন নেটওয়ার্ক  কোম্পানি গোপনে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে টেলিকমিউনিকেশন সেবা দেয়
ইউরোপের বিভিন্ন নেটওয়ার্ক কোম্পানি গোপনে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে টেলিকমিউনিকেশন সেবা দেয় |সংগৃহীত

ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সুরক্ষিত যোগাযোগ অবকাঠামো এবং কমান্ড কমিউনিকেশন কোড বা আদান-প্রদান করা বার্তার গোপন সংকেতগুলো ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর সামরিক বাহিনীর ভেতরে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী ইসরাইলি বাহিনীর ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর তথ্য হাতে পাওয়ার পর এই নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার ফলে ইসরাইলের যুদ্ধকালীন ব্যবস্থাপনা গভীর সঙ্কটের মুখে পড়েছে। তাসনিম নিউজের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এই অতি সংবেদনশীল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরিতে নেপথ্যে কাজ করছে বেশ কিছু ইউরোপীয় কোম্পানি।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মাঠ পর্যায়ের দূরপাল্লার ওয়্যারলেস সিস্টেম থেকে শুরু করে মূল কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের বড় অংশই পরিচালিত হয় একটি এনক্রিপটেড বা বিশেষ সংকেতে সুরক্ষিত ইন্টারনেট টেলিফোন সিস্টেমের মাধ্যমে। এই পুরো অবকাঠামোটি মূলত ইতালি, জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং ফ্রান্সের তৈরি হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল।

তথ্য ফাঁসের পর জানা গেছে, জার্মান-অস্ট্রিয়ান কোম্পানি ‘না-নেট কমিউনিকেশন জিএমবিএইচ’ ইসরাইলি বাহিনীকে টেলিকমিউনিকেশন, ইন্টারনেট সার্ভিস এবং ডিজিটাল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরবরাহ করে থাকে। পাশাপাশি আরেক সহযোগী হলো ফ্রান্সের বিখ্যাত টেলিকম প্রতিষ্ঠান ‘অরেঞ্জ এসএ’ । এর আগে কোম্পানিটি ফ্রান্স টেলিকম নামে পরিচিত ছিল। অরেঞ্জ এসএও ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ডাটা সেন্টার এবং নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণে সরাসরি যুক্ত।

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে ইতালীয় কোম্পানি ‘এনেগান এসপিএ’-কে নিয়ে। কোম্পানিটি বাইরে নিজেদের জ্বালানি সাশ্রয় বা এনার্জি এফিসিয়েন্সি নিয়ে কাজ করা সংস্থা হিসেবে পরিচয় দিলেও আদতে তারা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর টেলিকমিউনিকেশন সেবা দিতে পর্দার আড়াল থেকে কাজ করছে। এই গোপন আঁতাত এবং সামরিক অবকাঠামোর বিস্তারিত প্রকাশ হয়ে পড়ায় কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক ভাবমূর্তি এখন বিশ্বজুড়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এদিকে, যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা কোডগুলো সাইবার বিশেষজ্ঞদের হাতে চলে যাওয়ায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে, তারা এই তথ্য ফাঁসের বিষয়ে অবগত। তারা তড়িঘড়ি করে নতুন একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে চলমান যুদ্ধের মধ্যে এমন একটি জটিল ও বিশাল সিস্টেম রাতারাতি পরিবর্তন করা মোটেও সহজ কাজ নয়। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অতি গোপনীয় এই বার্তাগুলো ঠিক কতদিন ধরে হ্যাকার বা অন্যদের নজরদারিতে ছিল, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এই বিষয়ে তারা সামনে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করবে।