গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের রূপরেখা পেশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৫ অক্টোবর) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্র্যুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তা তুলে ধরেছেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই নিউজ এক প্রতিবেদনে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বন্দীবিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম ধাপে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের রূপরেখে পেশ করেছেন।
রূপরেখা দেখে মনে হয়েছে যে গত সপ্তাহে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের যে প্রস্তাবনা সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, এটি তারই বিস্তারিত রূপ এবং ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তবনায় এটিই সংক্ষিপ্তভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নতুন যে রূপরেখাটি প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি বেশ বিস্তারিত। তাতে স্পষ্টভাবে রয়েছে যে গাজার মিসর সীমান্তঘেঁষা শহর রাফা ইসরাইলি শক্তির নেতৃত্বাধীনই থাকবে। ফলে কার্যত ফিলাডেলফি করিডোরও তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
এদিকে, উত্তর গাজার বাইত হানুন শহরকেও ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। পরে যখন প্রস্তাবনার সকল ধারা পূর্ণ হবে, তখন পূর্ণরূপে সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, এভাবেই প্রাথমিকভাবে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার হবে। এরপর ধাপে ধাপে ২০ দফা বাস্তবায়নের সাথে সাথে পূর্ণরূপে প্রত্যাহার হয়ে যাবে।
এই প্রাথমিক প্রত্যাহারের পর বন্দীদের মুক্তি দেয়া হবে। এরপর ইসরাইল ধীরে ধীরে অতিরিক্ত ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ একটি আন্তর্জাতিক আরব-ইসলামী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করবে, যারা উপত্যকার নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করবে।
পোস্টে প্রকাশিত রূপরেখা অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনী গাজার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে তাদের বাহিনী মোতায়েন রাখবে। এমনিভাবে মিসর সীমান্তের ফিলাডেলফি করিডোরেও তাদের উপস্থিতি থাকবে। অবশেষে যখন গাজা তাদের জন্য আর হুমকি থাকবে না, তখন ইসরাইলি সকল বাহিনীকে প্রস্তাহার করে নেয়া হবে।
শনিবার সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন যে ইসরাইল প্রাথমিক প্রত্যাহার বিষয়ে রাজি হয়েছে, যা হামাসকেও অবহিত করা হয়েছে। এখন হামাসের সম্মতি পাওয়ার সাথে সাথেই যুদ্ধবিরতি শুরু হবে।
শনিবার ইসরাইলি বাহিনী ঘোষণা দিয়েছিল যে গাজায় অভিযানরত সেনাদের হামলা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফলে তারা সামনেও বাড়বে না। আবার যেখানে আছে, সেখান থেকে পেছনেও ফিরবে না।
তারা জোর দিয়ে বলেছে, এই ঘোষণার পর যেসব স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলোকে তারা নিজেদের জন্য হুমকি মনে করছিল। এমনিভাবে ফিলিস্তিনিদেরকে তারা ওই এলাকায় ফিরতে নিষেধ করেছে।
এদিকে, ইসরাইলি গণমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়ুম’ একটি কূটনৈতিক সূত্রে জানিয়েছে যে হামাস যদি বন্দিদের ছাড়তে রাজি হয়, তাহলে ইসরাইলি বাহিনী গাজায় হামলা বন্ধ করবে।
সূত্র : স্কাই নিউজ



