শখ থেকে স্বপ্নপূরণ : সৌদি তরুণীদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে অশ্বারোহণ

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাবুক অঞ্চলে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ফলে অশ্বারোহণ এখন অনেক সৌদি তরুণীর কাছে শুধু শখ নয়, বরং একটি নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেক নারী এখন নিজ নিজ অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বও করছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

সৌদি আরবের তাবুক অঞ্চলে নারীদের মধ্যে অশ্বারোহণের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঘোড়ার আস্তাবলের সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং নারী প্রশিক্ষকের প্রাপ্যতা বাড়ায় এই খেলায় তরুণীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। এর ফলে স্থানীয় প্রতিযোগিতায় নারীদের উপস্থিতি ও দক্ষতা বিকাশে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) তাবুক অঞ্চলের কয়েকটি অশ্বারোহণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে নারী অশ্বারোহীদের সাথে কথা বলে। নারী প্রশিক্ষক সারা আল-মুশাইতি বলেন, গত কয়েক বছরে এই খেলায় নারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। তার ভাষ্য, অশ্বারোহণ শুধু শারীরিক সক্ষমতা ও কৌশলই বাড়ায় না, এটি আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি জানান, প্রশিক্ষণের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাবিধি, ঘোড়ার সাথে আচরণের নিয়ম, ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ঘোড়া ও আরোহীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরির বিষয়ে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

অশ্বারোহণপ্রেমী সৌদি তরুণী দালাল আল-আইদা বলেন, শুরুতে শখের বশে এই খেলায় যুক্ত হলেও পরে এটি তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। তার মতে, এটি শুধু একটি খেলা নয়, বরং এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা জীবনের নানা শিক্ষা দেয়।

আরেক অশ্বারোহী রাঘাদ আল-আনজি জানান, ছোটবেলা থেকেই তার অশ্বারোহণের প্রতি আগ্রহ ছিল। দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণের পর তিনি তাবুকের প্রতিনিধিত্ব করে একাধিক স্থানীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।

সৌদি ফেডারেশন ফর হর্স রাইডিংয়ের সদস্য আবির শুজা বলেন, তিন বছর আগে তিনি অশ্বারোহণ শুরু করেন। ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাধা অতিক্রমের কৌশলে দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং ইয়ানবু ও জেদ্দায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্য পেয়েছেন। তার মতে, এই খেলায় সফল হতে ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং ধাপে ধাপে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাবুক অঞ্চলে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ফলে অশ্বারোহণ এখন অনেক সৌদি তরুণীর কাছে শুধু শখ নয়, বরং একটি নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেক নারী এখন নিজ নিজ অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বও করছেন।

সূত্র : এসপিএ