ইরান সামরিক প্রযুক্তিতে আরো এক ধাপ এগিয়ে নতুন একটি আত্মঘাতী বা 'কামিকাজে' ড্রোন তৈরি করেছে। ড্রোনটির নাম দেওয়া হয়েছে 'হাদিদ ১১০'। সোজা কথায়, এটি এমন এক ধরণের উড়ন্ত অস্ত্র যা সরাসরি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে গিয়ে নিজেকে বিস্ফোরণের মাধ্যমে শত্রুকে ধ্বংস করে দেয়।
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর নিউজের বুধবার ( ২৯ জুলাই) জানিয়েছে, দেশটির মিডিয়ার তথ্য মতে, এই ড্রোন ইরানের সবচেয়ে দ্রুতগামী আত্মঘাতী ড্রোনগুলোর অন্যতম। নতুন এই মডেলে আগের সংস্করণগুলোর চেয়ে গতি, উচ্চতা এবং রাডার ফাঁকি দেয়ার প্রযুক্তিতে বড় ধরনের উন্নয়ন আনা হয়েছে। আগের ড্রোনগুলোর তুলনায় হাদিদ ১১০কে আকাশে শনাক্ত করা বা খুঁজে পাওয়া অনেক বেশি কঠিন।
বিজ্ঞান ও সামরিক প্রযুক্তির দিক থেকে হাদিদ ১১০-এর গঠন বেশ চমৎকার। এর শারীরিক গড়ন বা বডি ডিজাইন করা হয়েছে 'স্টিলথ' প্রযুক্তিতে। 'স্টিলথ' হলো এমন এক কৌশল, যার মাধ্যমে কোনো ড্রোন বা বিমানের গায়ে শত্রুর রাডারের তরঙ্গ আটকে না গিয়ে ছিটকে যায়, ফলে রাডারে একে সহজে দেখা যায় না। গতি বাড়াতে হাদিদ ১১০তে ব্যবহার করা হয়েছে জেট ইঞ্জিন। তবে ড্রোনটি বাতাসে ওড়ে রকেট বুস্টারের ধাক্কায়। উৎক্ষেপণের পর নির্দিষ্ট গতি ও উচ্চতা পেলে রকেটটি আলাদা হয়ে যায় এবং জেট ইঞ্জিন চালু হয়। ফলে ড্রোনটি খুব দ্রুত বাতাসে নিজের ভারসাম্য বজায় রেখে পথ চলতে শুরু করে।

হাদিদ ১১০
মেহর নিউজের ইনফ্রোগ্রাম দেয়া তথ্য মোতাবেক, পরিসংখ্যান বলছে, ড্রোনটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫১৭ কিলোমিটার। একটানা প্রায় এক ঘণ্টা আকাশে ভেসে থাকতে পারে এবং ৩৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। প্রায় ছয় কিলোমিটার বা ২০ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট কোনো পয়েন্টে হামলা চালাতে পারে ড্রোনটি। হামলাকে আরো ধ্বংসাত্মক করতে এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে প্রায় ২০ কেজি ওজনের অতি শক্তিশালী বিস্ফোরক বা ওয়ারহেড।
যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতার দিক থেকে ইরানের এই নতুন সংস্করণটি প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, গতি আর লুকোচুরির নতুন খেলায় হাদিদ ১১০ ইরানের বিমান বাহিনীর সামরিক শক্তিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিল।



