গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় নিহত আরো ৮০ ফিলিস্তিনি

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক দিনে ৮০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা |সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক দিনে কমপক্ষে ৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়াও গাজায় ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে দুই শিশুসহ কমপক্ষে ১৪ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সোমবার (২৮ জুলাই) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অপুষ্টিতে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা ১৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ৮৮টি শিশুও রয়েছে।

গাজায় খাদ্য সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করায় সম্প্রতি বেশিভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইসরাইল পুরোপুরি অবরোধ আরোপ করে। মে মাসে সেই অবরোধ আংশিক তুলে নেয়া হয়। জাতিসঙ্ঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সতর্কতা সত্ত্বেও তখন থেকে খুব কম ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসঙ্ঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ-এর প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি সোমবার বলেন, গাজায় অবস্থানরত তার সহকর্মীরা মানুষজনকে এমন অবস্থায় দেখছেন যেন তারা ‘জীবিত নয়, মৃতও নয়– যেন তারা জীবন্ত লাশ’। ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের ওপর জাতিসঙ্ঘের এক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যা ঘটছে তার জন্য শুধু ক্ষোভ আর নিন্দা জানানো যথেষ্ট নয়।’

লাজ্জারিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য, তীব্রতর দুর্ভিক্ষের অবসান ঘটানোর জন্য এবং প্রতিটি পণবন্দীকে মুক্তি দেয়ার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। একবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইউএনআরডব্লিউ-এর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে মানবিক সহায়তা দেয়া সম্ভব হবে।’

এর আগে, সোমবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গাজায় প্রকৃত অর্থেই দুর্ভিক্ষ চলছে এবং ইসরাইল এ অবস্থার জন্য ‘বড় ধরনের দায়’ বহন করে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আগের দিন বলেছিলেন, গাজায় কোনো দুর্ভিক্ষ নেই। তবে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনিও স্বীকার করেন, গাজার পরিস্থিতি ‘কঠিন’ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ইসরাইল কাজ করছে।

সূত্র : আল জাজিরা