যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় ইসরাইলি হামলা, নিহত আরও আট ফিলিস্তিনি

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেও ইসরাইলি আগ্রাসনে ১,২২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাজা(ফাইল ছবি)
ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাজা(ফাইল ছবি) |সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি বজায় থাকার পরও গাজাজুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর গভীর রাতের নৃশংস হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বিমান, জল ও স্থলপথে একযোগে গাজার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে দখলদার বাহিনী।

ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু রোববার (২ আগস্ট) জানায়, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে ইসরাইলি হামলায় দুইজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। গাজা সিটির পশ্চিমে আল-সুসি ভবনে বিমান হামলায় এক শিশু ও তার বাবা-মা প্রাণ হারান। এ ছাড়া দক্ষিণের খান ইউনিসের মাওয়াসি এলাকায় আল-হামস পরিবারের বাড়িতে বোমাবর্ষণে এক শিশুসহ আরও তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেও ইসরাইলি আগ্রাসনে ১,২২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ৪,০৫৩ জন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮০৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩,৩৪৯ জনে, আর আহতের সংখ্যা ১৭৪,১৬২ ছুঁয়েছে। এখনও হাজার হাজার মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।

এদিকে চরম ডানপন্থি ইসরাইলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ গাজা সীমান্তের কাছে তিনটি নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে স্মোটরিচ দাবি করেন, তারা ২০০৫ সালে খালি করা ফিলিস্তিনিদের দখলকৃত জমিতে পুনরায় ফিরে যাচ্ছেন। গাজার উত্তর সীমান্তে নতুন বসতি গড়ার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরে আরও বসতি বাড়াবে তারা।

জাতিসংঘ এসব বসতি স্থাপনকে 'অবৈধ' ঘোষণা করা সত্ত্বেও পশ্চিম তীরে প্রায় সাড়ে সাত লাখ এবং পূর্ব জেরুজালেমে আড়াই লাখ ইসরাইলি অবৈধভাবে বসবাস করছে। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এসব দখলদারিত্ব বন্ধে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছে।