হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান ও ওমান। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা গেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুই দেশ প্রস্তাবিত শিপিং রুটের ভৌগোলিক সীমা নির্ধারণ করে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রস্তুতের কাজ চলছে। এতে প্রযুক্তিগত, আইনি, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তবে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার প্রধান জটিলতা হলো হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের দাবি। তেহরান এই জলপথ ব্যবহারের জন্য ফি আরোপ করতে চাইলেও জাতিসংঘের সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ চলাচলের সুযোগ থাকা উচিত বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো।
ইসমাইল বাঘেই বলেন, কোনো বাধা না থাকলে ইরান ও ওমান যৌথভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ বহাল থাকলে কেবল এই চুক্তির মাধ্যমে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এই পরিকল্পনার আওতায় হরমুজ প্রণালীতে একটি ‘মিডল করিডোর’ বা মধ্য করিডোর গড়ে তোলা হবে, যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরান ও ওমানের হাতে। তেহরান দাবি করছে, এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রও এই আলোচনার অংশ এবং আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রণালীটি দ্রুত খুলে দেয়া হবে, অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়।
সূত্র: ইউরো নিউজ



