গাজার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক দক্ষিণ সুদানে স্থানান্তর করতে চায় ইসরাইল

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি গাজার জনসংখ্যার বেশিভাগ অংশকে স্থানান্তরিত করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা |সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের দক্ষিণ সুদানে জোরপূর্বক স্থানান্তর করতে চায় ইসরাইল। পূর্ব আফ্রিকার এই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সাথে ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে আলোচনাও শুরু করেছে ইসরাইল।

বুধবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এ তথ্য জানিয়েছে।

বিষয়টির সাথে পরিচিত ছয় ব্যক্তি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে এই আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আলোচনা কতদূর এগিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এটি যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য অনেক বড় উদ্বেগের বিষয় হবে। কারণ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে থাকা এক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে তাদের ভয়াবহ দারিদ্র্য এবং প্রায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি চলছে এমন এক দেশে যেতে হবে।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি গাজার জনসংখ্যার বেশিভাগ অংশকে স্থানান্তরিত করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান। ইসরাইল অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলোর সাথেও একই ধরনের পুনর্বাসনের প্রস্তাব দিয়েছে।

মঙ্গলবার আই২৪ এবং ইসরাইলি টিভি স্টেশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ’আমি জানি, যুদ্ধের আইন হলো যে এলাকায় যুদ্ধ হবে সেখান থেকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেয়া এবং তারপর পূর্ণ শক্তি দিয়ে শত্রুকে মোকাবেলা করা।’ তিনি সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ সুদানের কথা উল্লেখ করেননি।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ইসরাইল ও দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করেছিল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। তবে কোনো দেশের কর্মকর্তাই মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে দক্ষিণ সুদানের সাথে কাজ করা একটি মার্কিন লবিং ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা জো স্জলাভিক জানান, দক্ষিণ সুদানের কর্মকর্তারা তাকে আলোচনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের বসবাসের জন্য সম্ভাব্য এলাকা নির্বাচন করার জন্য ইসরাইলের একটি প্রতিনিধি দল দেশটি সফরের পরিকল্পনা করছে। এই সফরের জন্য কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

দক্ষিণ সুদানের সিভিল সোসাইটির প্রধান এডমন্ড ইয়াকানি বলেন, তিনি দক্ষিণ সুদানের কর্মকর্তাদের সাথেও আলোচনা সম্পর্কে কথা বলেছেন। আলোচনা সম্পর্কে অবহিত আরো চার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোচনার বিষয়টি তাকে নিশ্চিত করেছেন।