যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ‘ইতিবাচক অনুমোদন’ দিয়েছে হামাস। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শনিবার চীনের বার্তাসংস্থা সিনহুয়াকে জানিয়েছেন, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির অংশ, যার বাস্তবায়নের জন্য ইসরাইলকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের কাছে হামাস যে লিখিত জবাব দিয়েছে, তাতে সময়সীমা ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা উল্লেখ আছে।
তিনি বলেছেন, ‘চুক্তির সব শর্ত, বিশেষ করে পুনর্গঠনের অঙ্গীকার ইসরাইল যাতে মেনে চলে, সেজন্য এখন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের দায়িত্ব হলো তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সুযোগ দেয়া উচিত নয়।’
উল্লেখিত প্রস্তাবে তিন ধাপে ইসরাইলি পণবন্দীদের মুক্তির পরিকল্পনা রাখা হয়েছে, যাদের অনেকে গত ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে গাজায় আটক আছেন। এসব ধাপ বাস্তবায়নের সময় আন্তর্জাতিক তদারকি থাকবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
হামাস দাবি জানিয়েছে, সব সীমান্ত পারাপার পথ যেন নিষেধাজ্ঞামুক্তভাবে আবার খুলে দেয়া হয় এবং ভবিষ্যতে সংঘর্ষ পুনরায় শুরু না হয়, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দেয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে মানবিক সহায়তা বিতরণ চালু রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
চুক্তির আওতায় ইসরাইলি বাহিনীকে ২ মার্চের আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে এবং এরপর পাঁচ বছরের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। বাস্তবায়নের পর গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি বেসামরিক প্রযুক্তিনির্ভর কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
শনিবার আরেক বিবৃতিতে হামাস নিশ্চিত করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পেশ করা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে।
হামাস জানায়, প্রস্তাব অনুযায়ী ১০ জন জীবিত ইসরাইলি পণবন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে এবং ১৮ জনের লাশ ফিরিয়ে দেয়া হবে। এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিতে হবে। এ চুক্তির লক্ষ্য একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার এবং মানবিক সহায়তার অব্যাহত প্রবাহ নিশ্চিত করা।
এর আগে, গত ১৯ জানুয়ারি কার্যকর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে ১৮ মার্চ থেকে ইসরাইল পুনরায় গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর ২ মার্চ থেকে ইসরাইল সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবাহ সীমিত করে। ২২ মে থেকে সীমিত সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪, হাজার ৩৮১ জন এবং আহত হয়েছেন এক লাভ ২৪ গাজার ৫৪ জন। এর মধ্যে ১৮ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত চার হাজার ১১৭ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১৩ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র : বাসস



