মৃতদেহ নিয়ে দরকষাকষি: ১৭০০ ফিলিস্তিনির লাশ আটকে রেখেছে ইসরাইল

মানবাধিকার সংস্থা গিশা জানায়, ইসরাইলের হেফাজতে মারা যাওয়া গাজা ও পশ্চিম তীরের ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনির মৃতদেহ এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। এর মধ্যে অন্তত ৬৮ জন গাজার বাসিন্দা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গাজা সিটির আল-আহলি আরব ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে  বেসামরিক প্রতিরক্ষা  দল গণকবর থেকে দেহাবশেষ উদ্ধারের পর তা রাখা হয়েছে বডি ব্যাগে
গাজা সিটির আল-আহলি আরব ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে বেসামরিক প্রতিরক্ষা দল গণকবর থেকে দেহাবশেষ উদ্ধারের পর তা রাখা হয়েছে বডি ব্যাগে

নিজেদের নাগরিকদের কোনো লাশ বা জিম্মি ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হাতে না থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১,৭০০ ফিলিস্তিনির মৃতদেহ আটকে রেখেছে ইসরাইল। ভবিষ্যৎ দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য এসব লাশ রেখে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেট। ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজ রোববার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। শিন বেট প্রধান ডেভিড জিনির এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীও।

মিডলইস্ট আই মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জানিয়েছে, আটকে রাখা এসব লাশের বেশিরভাগই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অভিযানে অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের। তবে এর মধ্যে সাধারণ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক এবং ১৩ জন ইসরাইলি নাগরিকের মৃতদেহও রয়েছে। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, অ-যোদ্ধা বা বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ আটকে রাখার কোনো আইনি এখতিয়ার ইসরাইলের নেই। কারণ দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার নীতিতে এর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

এমনই এক ঘটনায় জানা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার হওয়া এক ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রীর লাশ আটকে রাখার কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছে ইসরাইল। চার সন্তানের এই বাবা এরেজ ক্রসিংয়ের এক বন্দিশিবিরে গ্রেপ্তারের পরদিনই মারা যান। তার লাশের ময়নাতদন্ত পর্যন্ত করা হয়নি। মানবাধিকার সংস্থা গিশার সহায়তায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তার পরিবার মৃত্যুর খবর জানতে পারে। পরিবারকে জানানোর পরও মৃত্যুর তারিখ, স্থান, কারণ বা লাশ আটকে রাখার আইনি ভিত্তি প্রকাশ করেনি সরকার। তাকে 'হামাস সদস্য' বলে দাবি করা হলেও পরিবার তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

মানবাধিকার সংস্থা গিশা জানায়, ইসরাইলের হেফাজতে মারা যাওয়া গাজা ও পশ্চিম তীরের ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনির মৃতদেহ এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। এর মধ্যে অন্তত ৬৮ জন গাজার বাসিন্দা। ইসরাইল আদালতকে জানিয়েছে, লাশ আটকে রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়াটি ইরানের সাথে যুদ্ধের কারণে আপাতত স্থগিত রয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের লাশ স্বজনদের কাছে ফেরত না দিয়ে আটকে রাখার এই পুরনো নীতিকে আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি মানবাধিকার দলগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, মৃতদেহের সম্মানজনক দাফন নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক, যাতে পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারে। চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনেও মৃতদেহের মর্যাদা রক্ষা এবং সম্ভব হলে তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সম্মানজনক দাফনের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। অথচ ইসরাইলি আইনে ফিলিস্তিনিদের লাশ আটকে রাখাকে বৈধতা দিয়ে তা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রয়োগ করা হচ্ছে।