গাজা যুদ্ধ অবসানে যে প্রস্তাব দিলেন ট্রাম্প

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের অবসান এবং ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২১-দফা প্রস্তাবনার বিশদ বিবরণ প্রকাশ করেছে মার্কিন ও ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গাজায় ইসরাইলি বাহিনী
গাজায় ইসরাইলি বাহিনী |সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের অবসান এবং ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২১-দফা প্রস্তাবনার বিশদ বিবরণ প্রকাশ করেছে মার্কিন ও ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো।

টাইমস অফ ইসরাইল জানিয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের সভার ফাঁকে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আরব এবং ইসলামী দেশের সাথে এই পরিকল্পনা শেয়ার করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের স্থানান্তর

সংবাদপত্রটি বলেছে, এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের গাজায় থাকতে উৎসাহিত করে। একইসাথে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের গাজা বিষয়ে পূর্ববর্তী অবস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনও বটে। এটি গত ফেব্রুয়ারিতে দেয়া বিতর্কিত বক্তব্যের বিপরীত, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন যে ওয়াশিংটন গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ও এর বাসিন্দাদের বিদেশে পুনর্বাসনের ইচ্ছা রাখে।

পরিকল্পনায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের অবসান, বন্দী বিনিময়, একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিনি সরকার গঠন এবং উপত্যকার ব্যাপক পুনর্গঠনসহ একাধিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করার পদক্ষেপগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ

টাইমস অফ ইসরাইল আরো জানিয়েছে, পরিকল্পনার কিছু বিধান ফিলিস্তিনিদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও, বিশেষ করে পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কিত কিছু কঠিন শর্তও রয়েছে। বিশেষ করে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও সরকার থেকে তাদের বাদ দেয়া, যা তাদের জন্য পরিকল্পনাটি গ্রহণ করা কঠিন করে তুলতে পারে।

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সাথে সম্পর্কিত বিধানগুলো ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র বিরোধিতাকে উস্কে দেবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনার ২১ দফায় কী আছে?

১. গাজাকে ‘চরমপন্থা ও উগ্রবাদ’ মুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা।

২. গাজা পুনর্গঠন।

৩. উভয় পক্ষ প্রস্তাবনায় সম্মত হওয়ার পর যুদ্ধ অবিলম্বে শেষ হবে, ইসরাইলি অভিযান বন্ধ হবে এবং গাজা থেকে ধীরে ধীরে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার শুরু হবে।

৪. ইসরাইলের চুক্তিটি জনসমক্ষে গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সকল জীবিত বন্দী ও নিহতদের লাশ ফিরিয়ে দেয়া হবে।

৫. বন্দীদের ফেরত পাঠানোর পর ইসরাইল যুদ্ধের শুরু থেকে গাজায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শত শত ফিলিস্তিনি বন্দী এবং যুদ্ধের শুরু থেকে গাজায় আটক সহস্রাধিক বেশি বন্দীকে মুক্তি দেবে। পাশাপাশি শত শত ফিলিস্তিনিদের লাশ হস্তান্তর করবে।

৬. হামাস সদস্যদের জন্য শর্তসাপেক্ষে সাধারণ ক্ষমা এবং যারা চলে যেতে ইচ্ছুক তাদের জন্য সুবিধা প্রদান।

৭. ২০২৫ সালের জানুয়ারীতে বন্দী বিনিময় চুক্তিতে নির্ধারিত হারের চেয়ে কম নয় (প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক), অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের সরঞ্জাম প্রবেশের সাথে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো হবে।

৮. জাতিসঙ্ঘ, রেড ক্রিসেন্ট এবং নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সাহায্য বিতরণ করবে।

৯. ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গাজা ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের সমন্বয়ে গঠিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্বারা পরিচালিত হবে।

১০. গাজার পুনর্গঠনের জন্য একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন।

১১. কর ও ফি হ্রাস করে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা।

১২. ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানচ্যুত করা যাবে না।

১৩. হামাসকে শাসন ও নিরস্ত্রীকরণ থেকে বিরত রাখা।

১৪. সকল পক্ষের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলো থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করা।

১৫. নিরাপত্তা তদারকি এবং স্থানীয় ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আরব রাষ্ট্রগুলোর নেতৃত্বে একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন করা।

১৬. ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ধীরে ধীরে প্রত্যাহার।

১৭. হামাস যদি পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করে, তবে পরিকল্পনার আংশিক বাস্তবায়নের সম্ভাবনা।

১৮. কাতারে হামলা না চালানোর জন্য ইসরাইল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

১৯. চরমপন্থী মতাদর্শ ভেঙে ফেলার জন্য কর্মসূচি চালু করা।

২০. ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের দিকে পথ খোলা।

২১. ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করা।

সূত্র : স্কাই নিউজ