ইরানের মাটির গভীরে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন। তেমনই এক গোপন সামরিক উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আলী আব্দুল্লাহি। শনিবার (২২ আগস্ট) দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থার বরাতে জানা যায়, পরিদর্শনের সময় তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, 'শত্রুপক্ষের জানা উচিত, তারা একটি জাতির ইচ্ছাশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে জিততে পারবে না।'
ইরানের মেজান নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী (ভারপ্রাপ্ত) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইবনে-রেজার উপস্থিতিতে জেনারেল আব্দুল্লাহি ভূগর্ভস্থ কারখানাটি ঘুরে দেখেন। সেখানে তাকে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র উৎপাদনের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো তৃতীয় দফায় চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সময়কার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
সামরিক শিল্পের আধুনিকায়ন ও ক্ষিপ্রতার ভূয়সী প্রশংসা করে জেনারেল আব্দুল্লাহি বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে এখন শুধু নিরলস শ্রম আর অগ্রগতির উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। কর্মী ও কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় আজ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে উন্নত মানের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদিত হচ্ছে। গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের গতিও বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে আত্মঘাতী ড্রোনের উৎপাদন সক্ষমতা আগের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সে ক্রুজ ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কৃত্রিম উপগ্রহ, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী যান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম তৈরি হচ্ছে। বছরের পর বছর গবেষণাগার ও উৎপাদন লাইনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই ইরান আজ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অথচ বিপ্লব-পূর্ব যুগে ইরানের প্রতিরক্ষা চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভর করত, যা এখন সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে।



