তেল আবিবে ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। তেল আবিবের হাবিমা চত্বরে শনিবার রাতে মানুষের ফেটে পড়া ক্ষোভ যেন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ব্যর্থতার এক চরম দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ, আগাম নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার দাবি তুলেছেন।
ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি জানায়, বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাজপথে নেমে এসে যুদ্ধের অবসান এবং বর্তমান ক্যাবিনেটের রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
এই উত্তাল জনসমাবেশ থেকে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল এবং পশ্চিম তীর নিয়ে নেতানিয়াহু প্রশাসনের আগ্রাসী পরিকল্পনার বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
ইসরাইল এবং লেবাননের সাথে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরতেলআবিবের নিরাপত্তা কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হতেই রাজপথের দখল নেয় বিক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই পরিস্থিতিকে নেতানিয়াহুর ‘পুরোপুরি রাজনৈতিক ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তাকে সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পরবর্তী পরিস্থিতি সামলাতে সরকারের অযোগ্যতার কারণেই গত কয়েক মাস ধরে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এই প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে। সমাবেশস্থলে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও আয়োজকদের সাথে সমন্বয় থাকায় কোনো সংঘাত ছাড়াই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, যুদ্ধবিরতির এই সুযোগে সাধারণ মানুষের গণদাবি আদায়ের এই লড়াই নেতানিয়াহু প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে ইসরাইল কেবল সীমান্ত যুদ্ধেই লড়ছে না, বরং দেশের ভেতরেও এক বিশাল রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।



