হামাসের সিনিয়র ৪ নেতা ইসরাইলের বিশেষ টার্গেটে

ইসরাইলি দখলদার বাহিনী, জেনারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (শিনবেট) এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এখন হামাসের আরো চারজন শীর্ষ নেতাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হামাসের সিনিয়র যোদ্ধারা
হামাসের সিনিয়র যোদ্ধারা |মিডল ইস্ট মনিটর

গাজা উপত্যকার ভেতরে ও বাইরে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যার জন্য ইসরাইলি তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডানপন্থী ইসরাইলি দৈনিক মারিভ-এর সামরিক সংবাদদাতা আভি আশকেনাজির প্রতিবেদনে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

আশকেনাজি জানান, খান ইউনিসে একটি সুড়ঙ্গে চালানো বোমা হামলার মাধ্যমে আল-কাসসাম ব্রিগেডের কমান্ডার মোহাম্মদ সিনওয়ার এবং রাফাহ ব্রিগেড কমান্ডার মোহাম্মদ শাবানেহকে হত্যা করার বিষয়টি ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। এই সফল অভিযানের পর ইসরাইলি দখলদার বাহিনী, জেনারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (শিনবেট) এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এখন হামাসের আরো চারজন শীর্ষ নেতাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে এখন চিহ্নিত হয়েছেন গাজা ব্রিগেডের কমান্ডার ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ। আশকেনাজি দাবি করেন, গাজায় চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গাজা শহরের দক্ষিণে তেল আল-হাওয়া এলাকার একটি বাড়িতে চালানো বিমান হামলায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। এই হামলা শিনবেটের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি গাজা উপত্যকায় শিনবেট ও ইসরাইলি সেনাবাহিনী একটি লিফলেট ছড়িয়ে দেয়, যেখানে ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদের একটি ছবি প্রকাশ করা হয় তাকে রাইফেলের সামনে পোজ দিতে দেখা যায়। ছবির নিচে আরবি ও হিব্রু ভাষায় লেখা ছিল, ‘তিনি শিগগির তার বন্ধু সিনওয়ার, দেইফ ও হানিয়ার সাথে দেখা করবেন।’

মারিভ-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরাইলের টার্গেট লিস্টে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ওসামা হামদান, যিনি লেবাননে হামাসের শীর্ষ নেতা ছিলেন এবং চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে হামাসের অন্যতম সরকারী মুখপাত্র হিসেবে সক্রিয় আছেন।

হিব্রু সংবাদপত্রটি দাবি করেছে, হামদান বর্তমানে হামাসের বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ নেতা। তিনি অধিকাংশ সময় কাতারেই থাকেন।

এই রিপোর্টে উঠে আসা তথ্যগুলো ইসরাইলের আগ্রাসী নীতির আরো একটি নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে হামাসের সামরিক ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে।

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর