ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা অপরাধীদের চূড়ান্ত শাস্তি ভোগ করতেই হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। ইরানের ইংরেজি চ্যানেল মঙ্গলবার(৭ জুলাই) জানিয়েছে, সোমবার দেয়া এক বার্তায় তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের নেতার শাহাদাত ইরানি জনগণের সংকল্পকে আরো শক্তিশালী করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অতর্কিত আগ্রাসনের মুখেও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে টিকে থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রথম দিনে খামেনি শহীদ হন। তার জানাজায় লাখ লাখ মানুষের ঢলকে ‘সচেতনতা ও সংকল্পের এক মহাকাব্য’ আখ্যা দিয়ে গালিবাফ বলেন, 'এটি ইসলামী ইরান ও মুসলিম বিশ্বের চূড়ান্ত বিজয়ের আন্দোলনকে এক নতুন গতি দিয়েছে।'
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানি জনগণের টানা বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে যে জনগণ বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি ও অবিচল সমর্থক হিসেবে কাজ করছে, তারাই গত চার মাস ধরে প্রতি রাতে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরাইল ধ্বংস হোক’ বলে স্লোগান দিচ্ছে। তারা আমাদের নেতাকে যারা শহীদ করেছে তাদের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করছে এবং প্রতিশোধের দাবি জানাচ্ছে। গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় অঙ্গীকার করেন, ইরানের ওপর হামলা এবং আমাদের নেতা, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যার জন্য দায়ীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। জায়নবাদী শাসনের কবল থেকে ‘পবিত্র আল-কুদস বা জেরুজালেম মুক্ত করার’ মাধ্যমেই এই প্রতিশোধের চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হবে।
এদিকে রাজধানী তেহরানের পর কোম শহরের পবিত্র জামকারান মসজিদেও শহীদ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজায় লাখ লাখ শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে জনগণ ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তাদের সমর্থন আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছে। কালিবাফ বলেন, 'এই জাগ্রত জাতি তাদের বিদায়ী নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং আমাদের নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হোসাইনি খামেনির প্রতি আনুগত্যের নতুন শপথ নিয়েছে।'
ইরানি জনগণের এই অভূতপূর্ব আনুগত্য ও ত্যাগের প্রশংসা করে কালিবাফ জানান, ইরানিরা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনি, সদ্যশহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং শহীদদের দেখানো আলোকিত পথ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হয়নি। সাম্প্রতিক এই কঠিন পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে যে ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী। আজ পুরো বিশ্ব বুঝতে পেরেছে যে ইরানের কোনো পরাজয় নেই।
সবশেষে দেশের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে শুরু করে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিল পর্যন্ত, সবখানেই দেশের সুরক্ষা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে। সেই সাথে জনগণের অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে কোনো ধরনের চেষ্টার কমতি রাখা যাবে না।



