যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উত্তর তেহরানে অবস্থিত শহিদ বেহেস্তি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে একটি গবেষণা কেন্দ্র যুদ্ধবিমানের বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার এলিট এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লেজার ও প্লাজমা গবেষণা ইনস্টিটিউটে হামলা চালানো হয়।
সরকারি সিদ্ধান্তে দেশের সব শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে স্থানান্তরিত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রায় ফাঁকা ছিল, ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আশপাশের ছাত্রাবাস আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার কারণ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণাগারে ম্যাগনেটো-ফোটোনিক্স ল্যাবের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ও পরমাণু বিজ্ঞানী মোহাম্মদ মেহদি তেহরাঞ্চি, যিনি গতবছরের জুনে ইসরাইলের অভিযানের শুরুতে নিহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ হামলাকে ‘শিক্ষাবিদদের নিরাপত্তা ও বৈজ্ঞানিক পরিবেশের ওপর আঘাত’ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মহলকে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তিমন্ত্রী হোসেইন সিমায়ি সারাফ জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তার ভাষায়, “বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রের ওপর হামলা মানে মানবসভ্যতাকে পাথর যুগে ফিরিয়ে নেওয়া।” তিনি এ মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকির প্রেক্ষাপটে।
চলমান সংঘাতে তেহরানের ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একটি গবেষণা কেন্দ্রও ধ্বংস হয়েছে, যেখানে দেশীয় স্যাটেলাইট উন্নয়ন কার্যক্রম চলছিল।
এ ছাড়া রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইরানের পাস্তুর ইনস্টিটিউটে হামলায় প্রতিষ্ঠানটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠান সংক্রামক রোগ, ভ্যাকসিন ও জৈব পণ্য উৎপাদন এবং উন্নত রোগ নির্ণয়ে কাজ করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, যদিও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানান, মার্চের শুরু থেকে ইরানে ২০টির বেশি স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এর মধ্যে দেলারাম সিনা মনোরোগ হাসপাতালও রয়েছে, যা সাম্প্রতিক এক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানীর কাছাকাছি একটি বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানেও হামলা হয়েছে। ইরান সরকারের দাবি, ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে, যদিও ইসরায়েল এটিকে রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ করেছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, দেশজুড়ে স্কুল, আবাসিক ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়েছে, যাতে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে তেহরানের আকাশে যুদ্ধবিমান নিচু দিয়ে উড়ে একাধিক হামলা চালায়, এতে রাজধানীর উত্তরাঞ্চল আলোকিত হয়ে ওঠে।
সূত্র: আল জাজিরা



