মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মুখে কঠোর অবস্থানের কথা জানাল ইরান। বুধবার তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক অভিযানের তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দিতে তাদের বাহিনী প্রস্তুত। তবে একইসাথে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর পথও খোলা রেখেছে দেশটি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সতর্কবার্তায় বলেন, তাদের বাহিনীর ‘আঙুল এখন ট্রিগারে’ রয়েছে। যেকোনো মার্কিন হামলার ‘শক্তিশালী জবাব’ দেয়া হবে।
তবে ট্রাম্পের সুরেই তিনি একটি সম্মানজনক চুক্তির ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ইরান সব সময় একটি পারস্পরিক লাভজনক ও ন্যায্য পরমাণু চুক্তিকে স্বাগত জানায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে আরাগচি লিখেন, ‘হুমকি নয় বরং চাপমুক্ত হয়ে সমতার ভিত্তিতে ইরান একটি কার্যকর পরমাণু চুক্তিতে আগ্রহী। এমন চুক্তি যা ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তির অধিকার নিশ্চিত করবে এবং কোনোভাবেই ‘পারমাণবিক অস্ত্র নয়’ এমন গ্যারান্টি দেবে।’
তিনি আরো দাবি করেন, ইরানের নিরাপত্তা কৌশলে পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো স্থান নেই এবং তেহরান কখনোই তা অর্জনের চেষ্টা করেনি। তবে পাশ্চাত্যের দেশগুলো দীর্ঘ দিন ধরেই ইরানের এমন দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখে আসছে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা আলি শামকানি আরো কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সীমিত হামলার চিন্তা একটি অলীক কল্পনা। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পর্যায়ের সামরিক পদক্ষেপকে যুদ্ধের শুরু হিসেবে দেখা হবে। এর জবাব হবে নজিরবিহীন। তখন ইসরাইলের তেল আবিবসহ আগ্রাসনকারীদের সব সহযোগীকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান অভিমুখে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ‘বিশাল রণতরী’ (ম্যাসিভ আর্মাডা) পাঠানোর কথা জানান।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে দ্রুত ও কঠোরভাবে মিশন সম্পন্ন করতে এই বাহিনী প্রস্তুত।
ট্রাম্পের এই হুমকির পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরান এখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
ডিসেম্বরের শেষে শুরু হওয়া ইরানবিরোধী বিক্ষোভ জানুয়ারির ৮ ও ৯ তারিখে ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে বিক্ষোভের চেয়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। গত বছর জুনে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও মার্কিন বাহিনী ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
এদিকে, অস্থিরতা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এছাড়া কাতার ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র : বাসস



