সাগরে ২৫০ দিন :

মার্কিন রণতরি আব্রাহাম লিংকনের জওয়ানদের চরম দুর্ভোগ নিয়ে সিনেটরের উদ্বেগ

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, হতাশা থেকে অনেক নাবিক সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করেছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন |সংগৃহীত

টানা ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে ভেসে থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ভেতরের পরিবেশ এখন নারকীয়। কোনো বন্দরে নোঙর না ফেলে টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে কাটানোর এক বিষাদময় রেকর্ড গড়েছে বিশাল এই যুদ্ধজাহাজটি। জাহাজে খাবার পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট, টয়লেট ও নর্দমার সমস্যা, ছাতা পরা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, হতাশা থেকে অনেক নাবিক সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করেছেন।

এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং চাওয়ের কাছে জরুরি জবাব তলব করেছেন মার্কিন সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির প্রভাবশালী সদস্য সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। বুধবার পাঠানো এক চিঠিতে তিনি রণতরিটিতে থাকা সেনাদের জীবনযাত্রার মান এবং মার্কিন নৌবাহিনীর বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে বেশ কিছু তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলেন।

খবরে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগোর নৌঘাঁটি থেকে সাত মাসের অভিযানে রওনা হয় আব্রাহাম লিংকন। নিয়ম অনুযায়ী চলতি বছরের মে মাসে এটি ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক সামরিক উত্তেজনার কারণ দেখিয়ে এর মেয়াদ বারবার বাড়ানো হয়েছে। এদিকে, কবে নাগাদ জাহাজটি ফিরবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হয়নি। খবর পাওয়ার মাধ্যম বা চিঠিপত্র পৌঁছানোর ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে; ফলে জওয়ানদের জন্য পাঠানো স্বজনদের ভালোবাসার উপহার মাসের পর মাস পথ হারিয়ে পড়ে থাকছে।

যুদ্ধজাহাজে সেনাসদস্যদের অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করতে হয়। বিমান চলাচলের গর্জন, দাহ্য জ্বালানি, ক্ষতিকারক অস্ত্র এবং বিশাল সব যন্ত্রপাতির মাঝে সামান্যতম ক্লান্তি বা অসাবধানতা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ডেকে আনতে পারে। সিনেটর ব্লুমেনথাল সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় কোনো বিশ্রাম না পাওয়া, জাহাজের যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া এবং চরম মানসিক চাপ এই ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রায় পাঁচ হাজার সেনা ও মেরিন সদস্যকে নিয়ে ভেসে থাকা জাহাজটিতে ক্রমাগত চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যা এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা বাড়ছে।

ওয়াশিংটন যদি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করে থাকে, তবে বর্তমান প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে ভবিষ্যৎ বাহিনীকে যেন মহা সংকটে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি স্পষ্ট করার তাগিদ দিয়েছেন ব্লুমেনথাল। একই সাথে তিনি জানতে চেয়েছেন, কোন সামরিক উদ্দেশ্যে এই রণতরিকে এভাবে আটকে রাখা হচ্ছে এবং কার অনুমোদনে বারবার এই মিশন দীর্ঘায়িত করা হলো। আগামী ১২ থেকে ২৪ মাস মধ্যপ্রাচ্যে নৌবাহিনীর তৎপরতা কীভাবে বজায় রাখা হবে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে পেন্টাগনের কাছে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন